দেশবাংলা

ধর্ষক শিক্ষকের গ্রেফতারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন

চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার নিভৃতপল্লী মোক্তারপুর গ্রামের ৮ম শ্রেনীর মেধাবী শিক্ষার্থী তার প্রাইভেট শিক্ষকের দ্বারা ধর্ষণের শিকার হয়েছে এবং তার লেখাপড়া বন্ধের উপক্রম এমন অভিযোগের ভিত্তিতে ধর্ষককে গ্রেফতার ও শাস্তির দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা।

সোমবার বেলা ১২ টার দিকে ধর্ষনের শিকার ছাত্রীর পিতা মো.মিন্টু তার নিজ বাড়িতে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন। এ সময় তিনি উপস্থিত সাংবাদিকদের সামনে লিখিত বক্তব্যে জানান, তার আদরের বড় মেয়ে মিথিলা ইয়াছমিন রানী পাশ্ববর্তী মিনাজপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেনীর মেধাবী শিক্ষার্থী।

একই গ্রামের ফজলুল হক বিশ্বাসের ছেলে মোক্তারপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক লম্পট আল-মামুন তার মেয়েকে প্রাইভেট পড়ানোর সুযোগে গত ২৬ এপ্রিল ওই শিক্ষার্থীকে নির্জন ঘরে আটকে পিতা ও তাকে হত্যার হুমকী দিয়ে ধর্ষন করে। ধর্ষনের এ বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা জেলার স্থানীয় দৈনিক মাথাভাঙ্গা পত্রিকা ও সময়ের সমীকরন পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ হওয়ার পরও পুলিশ আমলে নেয়নি বিষয়টি।

এমতাবস্থায় পরদিন ১০ জুন সোমবার এ বিষয়ে সংবাদ সম্মেলন করা হবে স্থানীয় সাংবাদিকদের কাছে এ তথ্য জানতে পেরে আগেরদিন রবিবার বিকেলে জীবননগর থানার ওসি ধর্ষিতা ছাত্রীর পিতা মিন্টুকে তড়িঘড়ি করে থানায় ডেকে নিয়ে ধর্ষন মামলা নথিভূক্ত করেন। সোমবার ভিকটিমের ডাক্তারী পরিক্ষা সম্পন্ন হয়েছে এবং মামলার একমাত্র আসামী লম্পট শিক্ষক আল-মামুনকে গ্রেফতারে সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে বলে জীবননগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম জানান।

এর আগে এ বিষয়ে থানায় অভিযোগ করতে গেলে প্রভাবশালী মহলের চাপে বাড়িতে ফিরতে বাধ্য হয় ভূক্তভোগী পরিবারটি। এর পরে স্থানীয় ইউপি মেম্বর ও গ্রামের সমাজপতিরা উপযুক্ত বিচারের আশ্বাষ দিয়ে কেবল সময় ক্ষেপন করেই যায়। অপরদিকে গ্রামের প্রভাবশালী বিশ্বাস পরিবারের ফজলুল হক বিশ্বাসের ছেলে লম্পট আল-আমিন কয়েকবার ধর্ষিতা ছাত্রীর বাড়ি যেয়ে খুন করার হুমকি দিয়ে বলে আসে যেন তারা বাড়ি থেকে বের না হয়।

এ ঘটনায় ভীত সন্তস্ত্র হতদরিদ্র মিন্টু ও তার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতার মাঝে মানবেতর জীবন যাপন করে আসছে। এক পর্যায়ে ছাত্রীটির লেখাপড়াও বন্ধ হয়ে যায়। গ্রামের প্রভাবশালীরা ছাত্রীটির পিতাকে আইনের আশ্রয় নিতে দিচ্ছেনা আবার নিজেরাও উপযুক্ত বিচার করে দিবে বলে দিনের পর দিন কাল ক্ষেপন করতে থাকে।

অবশেষে এলাকার কতিপয় যুবকের পরামর্শে সাংবাদিক সম্মেলন করা ও চুয়াডাঙ্গায় কর্মরত কয়েকজন সাংবাদিকের প্রচেষ্ঠায় জীবননগর থানা এ ঘটনায় মামলা নথিভূক্ত করে ভূক্তভোগী ও অসহায় পরিবারটিকে কিছুটা আশ্বস্থ করতে সক্ষম হলো।

মামুন মোল্লা, চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button