জগন্নাথপুরে অবৈধ অটোরিকশা ও ইজিবাইক থেকে টোকেনে চাঁদা আদায়

সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুর উপজেলা সয়লাব হয়ে গেছে অবৈধ অটোরিকশা, ইজিবাইক ও ব্যাটারি চালিত রিকশায়। টোকেনের মাধ্যমে নিয়মিত চাঁদা দিয়ে ওইসব যানবাহন উপজেলার আঞ্চলিক সড়ক থেকে শুরু করে প্রতিটি গ্রামীণ জনপদে দাপিয়ে বেড়ায়।
টোকেনের মাধ্যমে টাকা না দিয়ে কেউ ওইসব যানবাহন নিয়ে রাস্তায় নামলে বিপদে পড়তে হয়। বন্ধী হতে হয় পুলিশের খাচায়। যদিও জগন্নাথপর থানার ওসি ইখতিয়ার চৌধুরী বলেছেন, সারাদেশে ওই ধরণের অবৈধ যানবাহন চলাচল করে। একই অবস্থায় জগন্নাথপুর এলাকায়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জগন্নাথপুর উপজেলায় একটি পৌরসভা ও ৮ টি ইউনিয়ন রয়েছে। বাজার রয়েছে কমপক্ষে ২০ টি। এসব বাজারের অন্যতম হচ্ছে জগন্নাথপুর বাজার, রানীগঞ্জ বাজার, রসুলগঞ্জ বাজার, গোবিন্দগঞ্জ বাজার, পল্লীগঞ্জ বাজার, ইনাতগঞ্জ বাজার, বড়ফেছীর বাজার, নয়বান্দর বাজার, কেইনবাড়ী বাজার, মিরপুর বাজার, সৈয়দপুর বাজার, চিলাউড়া বাজার, হলিকোনা বাজার, রৌয়াইল বাজার, শান্তিগঞ্জ বাজার, স্বাধিন বাজার, কেশবপুর বাজার ও কলকলি বাজার উপজেলার উল্লেখযোগ্য সড়কগুলো হলো
বিশ্বনাথ-জগন্নাথপুর বাইপাস সড়ক, ভবের বাজার-সৈয়দপুর-নয়াবন্দর-গোয়ালাবাজার সড়ক, জগন্নাথপুর-কুবাজপুর-পাইলগাওঁ-কুশিয়ারা নদী-ইনায়েতগঞ্জ-হবিগঞ্জ সড়ক, পাগলা-জগন্নাথপুর-রানীগঞ্জ-আউশকান্দি বিশ্বরোড।
উপজেলার পাকা রাস্তাগুলো হলো: জগন্নাথপুর-ভবের বাজার-মীরপুর-বিশ্বনাথ সড়ক, জগন্নাথপুর-শিবগঞ্জ বাজার সড়ক, জগন্নাথপুর-পাগলা সড়ক, ভবের বাজার-সৈয়দপুর-শাহারপাড়া-নয়াবন্দর-গোয়ালাবাজার সড়ক, নয়াবন্দর-দাওরাই বাজার-পাঠকুরা বাজার সড়ক, মীরপুর-রসুলগঞ্জ বাজার সড়ক, পাইলগাওঁ হাই স্কুল-কাতিয়া-বড় ফেচী বাজার-বেগমপুর সড়ক, জগন্নাথপুর-কলকলিয়া-তেলিকোনা সড়ক।
ওইসব সড়ক ও বাজারকে কেন্দ্র করে অবৈধ ৫০০ অটোরিকশা, ৫০০ ইজিবাইক ও ৫০০ ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচল করে। এসব যানবাহন থেকে প্রতি মাসে চাঁদাবাজি হয় ৬ লাখ টাকার উপরে।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, পাঁচ শতাধিক রেজিস্ট্রেশন বিহিন সিএনজি চালিত অটোরিকশার কাছ থেকে প্রতি মাসে ৩ লাখ টাকা চাঁদা সংগ্রহ করে ক্যাশিয়ার। সিএনজি চালিত প্রতিটি অটোরিকশা প্রতি মাসে অগ্রীম ৬০০ টাকা চাঁদা দিয়ে টোকেন সংগ্রহ করে। ওই টোকেনের মাধ্যমে চালক রাস্তায় নামে অটোরিকশা নিয়া।
টোকেন সংগ্রহ না করে রাস্তায় নামলে পুলিশ আটকে দেয় ওই অটোরিকশা। তারপর পোহাতে হয় অনেক ঝামেলা। একইভাবে ইজিবাইক প্রতি ৩০০ টাকা ও ব্যাটারিচালিত রিকশা প্রতি দিতে হয় ৩০০ টাকা করে। ১০০০ ইজিবাইক ও ব্যাটারিচালিত রিকশা থেকে প্রতি মাসে চাঁদা সংগ্রহ হয় ৩ লাখ টাকা। এসব চাঁদা সংগ্রহ করে নির্ধারিত ক্যাশিয়ার।
স্থানীয়রা জানান, ওইসব অটোরিকশা, ইজিবাইক ও ব্যাটারিচালিত রিকশা অবৈধ হওয়ায় চালকদের নেই কোনো ধরণের ড্রাইভিং লাইসেন্স। ফলে কোনো ধরণের দুর্ঘটনা ঘটলে ওইসব চালকের উপর কোনো দায় চাপে না।
স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, ইজিবাইক ও ব্যাটারিচালিত রিকশায় বিদ্যুতের চার্জ দিতে হয়। এই চার্জ দিতে গিয়ে বিদ্যুত চুরির ঘটনা ঘটছে। অধিকাংশ গাড়িতেই বিদ্যুতের চার্জ দেয়া হয় চুরি করে। এতে করে বিদ্যুত বিভাগ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। স্থানীয়রা জানান, করোনা ভাইরাস প্রাদুর্ভাব ছড়িয়ে পড়ার পর সারাদেশে লকডাউন শুরু হয়। সব জায়গায় যানবাহন বন্ধ থাকলেও জগন্নাথপুরে ওইসব অবৈধ যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়নি।
অভিযোগ উঠেছে অবৈধ এসব অটোরিকশার মাধ্যমে জগন্নাথপুরে সব ধরণের অপরাধ কর্মকান্ড পরিচালিত হয়। বিশেষ করে মাদক পাচারে এসব গাড়ি ব্যবহার করা হয় অহরহ। টোকেন মানি দিয়ে রাস্তায় নামার কারণে চালকদের ভেতরে নেই কোনো ভয়। কারণ এসব গাড়ি কেউ আটক করে না। ফলে সব ধরণের অপরাধ কর্মকান্ড বহন করেও এসব গাড়ি পার পেয়ে যায়।
জগন্নাথপুর থানার ওসি ইখতিয়ার চৌধুরী বলেন অবৈধতো অবৈধ। সারাদেশে এসব অবৈধ যানবাহন চলছে। একইভাবে চলছে জগন্নাথপুরে। এসব যানবাহনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার বিষয়টি চলমান। এই ব্যবস্থা নেয়ার জন্যে কাজ করছেন ট্রাফিক বিভাগ।
গোবিন্দ দেব, জগন্নাথপুর প্রতিনিধি



