জোয়ারের পানিতে বাউফলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

একদিকে টানা সাত দিন ধরে বৃষ্টি অপর দিকে আমাবস্যার প্রভাবে নদ নদীতে পানির অস্বাভিক বৃদ্ধির কারনে পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার বিভিন্ন গ্রামাঞ্চল বেরিবাঁধ ভেঙ্গে পানি ঢুকে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। প্লাবিত হয়ে ভেসে গেছে পুকুরসহ খামাড়িদের ঘেরের মাছ। ডুবে গেছে আমন বীজতলা ও সবজির খামার। টিউবয়েল ডুবে বিশুদ্ধ পানি ও স্যানিটেশন ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়েছে।
সরেজমিন দেখা গেছে, অব্যাহ বৃষ্টি ও অমাবশ্যার জোয়ের প্রভাবে বেরিবাঁধ ভেঙ্গে নদী বেষ্টিত চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের প্রায় সকল এলাকাই ৪ থেকে ৫ ফুট পানির নিচে তলিয়ে গেছে। পানির চাপে শত শত পুকুর ও ঘের থেকে লাখ লাখ টাকার মাছ ভেসে গেছে। অভাব দেখা দিয়েছে পশু খাদ্যের। পানিবন্দী হয়ে পড়েছে কয়েক হাজার মানুষ।
পানিতে টিউবয়েল ডুবে বিশুদ্ধ পানি ও স্যানিটেশন ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়েছে। তলিয়ে গেছে আমান বীজ তলা। একই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে ধুলিয়া, কেশবপুর, নাজিরপুর, সূর্যমনি, কাছিপাড়া এবং কালাইয়া ইউনিয়নের একাংশের। ধুলিয়া ও কেশবপুরের রাস্তাঘাট তলিয়ে অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের প্রবীন এক জেলে ওমর আলী জানান, অমাবশ্যার পর পঞ্চমী তিথি পর্যন্ত পানির চাপ থাকে। তবে উজান থেকে পানি আসায় ভাটির নদীগুলোতে পানি কমছে না। ফলে পানি বৃদ্ধির প্রবাহ দীর্ঘ হতে পারে। আমার পরিস্থিতি চরবেষ্ঠিত চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এনামুল হক আলকাচ মোল্লা জানান, তার ইউনিয়নে বেরিবাঁধসহ সড়ক ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে সব চেয়ে বেশি।
পানির চাপে সেনিটেশন ব্যবস্থা পড়েছে হুমকির মুখে। বিশুদ্ধ পানির জন্য যে কয়টা টিউবয়েল রয়েছে তা এখনও পানির নীচে। চরের মানুষজন নদীর পানি পান করতে বাধ্য হচ্ছে। উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা জসিম উদ্দিন জানান, ইতিমধ্যেই কয়েশ শত পুকুর এবং ঘের তলিয়ে কোটি টাকার মাছ ভেসে যাওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।
আমারা সরেজমিন প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির তথ্য সংগ্রহ করছি। উপজেলা কৃষি অফিসার মনিরুজ্জামন হিমু জানান, প্রাথমিকভাকে প্রায় ২০ হাজার হেক্টর জমির বীজতলা পানির নিচে তলিয়ে রয়েছে বলে জানা গেছে। তবে ক্ষয়ক্ষতির নিরুপণ করা হচ্ছে। তিনি বলেন, বীজতলা এক সপ্তাহের বেশি পানিতে ডুবে থাকলে বীজ নষ্ট হয়ে যায়োর সম্ভাবনা বেশি।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. জাকির হোসেন জানান, দুর্গত চরাঞ্চল পরিদর্শন করে অসহায় পরিবারের মাঝে শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে। পরিবার প্রতি ২০ কেজি চালসহ প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
কৃষ্ণ কর্মকার, বাউফল প্রতিনিধি



