গাংনীতে বৃদ্ধ মুয়াজ্জিনকে কুপিয়ে খুন

ছহির উদ্দীন (৮৫) নামের একজনকে কুপিয়ে খুন করেছে দুর্বৃত্তরা। বুধবার সকাল সাড়ে নয়টার দিকে স্থানীয় কবরস্থানের পাশে দুই মুখোশধারী তাকে খুন করে পালিয়ে যায়। খুনিদের চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন পুলিশ।
নিহত ছহির উদ্দীন (৮৫) সাহেবনগর গ্রামের মৃত নায়েব আলীর ছেলে ও স্থানীয় মসজিদের মুয়াজ্জিন। এ ব্যাপারে গাংনী থানায় অজ্ঞাত নামীয় আসামী করে একটি হত্যা মামলা রুজু করা হয়েছে। উদ্ধার করা হয়েছে খুনের কাজে ব্যবহৃত একটি ধারালো হাসুয়া ও একটি ছুরি।
মৃত ছহিরুদ্দীনের বড় ছেলে খয়ের উদ্দিন জানান, ১৫ থেকে ২০ বছর আগে থেকে বাবা ছহিরুদ্দীন স্থানীয় একটি মাদ্রাসা, ইদগাহ ময়দান ও সামাজিক কবর স্থানের অবৈতনিক কেয়ার টেকার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। কারো সাথে পুর্ব শত্রুতাও তার ছিলো না। সকালে স্থানীয় লোকজন খবর দেন যে বাবাকে কুপিয়ে খুন করেছে দুর্বৃত্তরা। ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে বাবার নিথর দেহটা পড়ে আছে কবরের পাশে।
ছোট মেয়ে শাহিনা খাতুন জানান, সকাল আটটার দিকে বাবা খাবার খেয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে ঈদগাহ মাঠে চলে আসেন। সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে গ্রামের লোকজন বাবার খুন হওয়ার খবর দেন। ছহিরুদ্দীনের সাথে জমি জিরাত কিংবা ওই প্রতিষ্ঠানের প্রতিপক্ষের সাথে প্রকাশ্য কোন দ্বদ্বও ছিল না। কী কারণে এ খুনের ঘটনা তা বোধগম্য নয় তাদের।
সাহেব নগর মসজিদ কমিটির সভাপতি আব্দুল আজিজ বলেন, বৃদ্ধ ছহিরুদ্দিন স্বেচ্ছায় এবং বিনা বেতনে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান দেখভালের দায়িত্বে ছিলেন। বুধবার সকালে গ্রামের গফুরের ছেলে পলাশ কবর স্থানের পাশ্বে একটি কাঁঠাল গাছে পাতা কাটছিল। এসময় কালো মুখোশ পরিহিত দু’জন লোক পেছন দিক থেকে ছহিরুদ্দিনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপাতে থাকে। এসময় পলাশ চিৎকার দিলে হত্যাকারীরা পালিয়ে যায়।
গাংনী থানার ওসি মোঃ ওবাইদুর রহমান জানান, খবর পেয়ে তিনিসহ পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন করে ময়না তদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছেন। পাশাপাশি হত্যাকারীদের খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে বলেও জানান তিনি।
এদিকে এলাকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও খুনের রহস্য উদঘাটনের জন্য মেহেরপুর পুলিশ সুপার এসএম মুরাদ আলি, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হাসিবুল আলম, গাংনী থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) সাজেদুল ইসলামসহ পুলিশের আরো একটি টীম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
মেহেরপুর পুলিশ সুপার এসএম মুরাদ আলি জানান, কি কারণে বৃদ্ধকে হত্যা করা হয়েছে তা ক্ষতিয়ে দেখা হচ্ছে। খুব শীঘ্রই ঘটনার রহস্য উদঘাটন ও খুনীদের গ্রেপ্তার করা হবে। করা হবে।
আকতারুজ্জামান, মেহেরপুর প্রতিনিধি



