
আধুনিকতা ও নকলের ভীড়ে হারিয়ে যাচ্ছে, কুমিল্লার খদ্দর বা খাদি কাপড়। ঈদ সামনে থাকলেও, তাঁতী বাড়িতে নেই সেই জৌলুস। ঐতিহ্যবাহী এ শিল্পটি এখন পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে, বন্ধের প্রায় দ্বার প্রান্তে । অথচ একটা সময়, ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত, তাঁতীরা ব্যস্ত থাকতো খাদি কাপড় বোনায়। দেশের চাহিদা মিটিয়ে দেশের বাইরেও রপ্তানী হতো খদ্দর কাপড়। পুঁজি ও সুতার অভাব এবং প্রয়োজনীয় লোকবল না থাকায়, দিন দিন কমছে কলের সংখ্যা।
ঈদে নতুন কাপড় কিনতে গেলে, কুমিল্লার মানুষের প্রথম পছন্দ খাদি । এই কাপড় পড়তে আরাম ও সাশ্রয়ী। খাদি শিল্পিদের অসাধরন ডিজাইন করা পণ্য, শুধু বাংলাদেশেই নয়, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের মানুষ পছন্দ করে। প্রতিযোগীতার বাজারে টিকতে না পেরে, অনেকেই বাপ দাদার পেশা ছেড়ে দিয়েছে। তাঁতী বাড়িগুলো আজ নিস্তব্ধ।
বর্তমানে শ্রমিক ও কাচাঁমাল সংকটের কারনে, খাদির কাজে নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টি হচ্ছেনা। এছাড়া, বাজার দখল করেছে নকল মেশিনে তৈরী খাদি, যা একেবারেই নিম্নমানের। এতে হ্রাস পাচ্ছে খাদির জনপ্রিয়তা।
এদিকে, জমে উঠেছে কুমিল্লার বিভিন্ন শপিংমল ও বিপনী বিতানগুলোর বেচা-কেনা। নতুন প্রজন্মের ক্রেতাদের কাছে খাদিকে জনপ্রিয় করতে, নতুন নতুন ডিজাইন সংযুক্ত করা হচ্ছে।
বড় বড় কোম্পানীর চাহিদার কারনে, এখন আর পাওয়া যায়না খাদির কাচাঁমাল। ফলে, হাতে বোনা খাদিকে টিকিয়া রাখা সম্ভব হচ্ছে না। সরকারি সহযোগিতা পেলে ঘুরে দাঁড়াতে পারবে এই শিল্প।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন,এ শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে সরকারের উদ্যোগের পাশাপাশি এগিয়ে আসতে হবে সাধারন ক্রেতাদের,ব্যবহার করতে হবে খাদি পণ্য। তা না হলে দ্রুতই হারিয়ে যাবে শিল্পটি।
বাংলা টিভি / বুলবুল



