ছাগল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ, মিটারে লোহার রিং ঢুকিয়ে বাড়ানো হয় ওজন

বাংলা টিভি ডেস্ক: নেত্রকোণার কলমাকান্দা উপজেলায় ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর দরিদ্র পরিবারের মাঝে ছাগল বিতরণ কার্যক্রমে অনিয়ম ও ওজনে কম দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে উপকারভোগীদের মধ্যে ক্ষোভ ও উত্তেজনা দেখা দেয়।
সোমবার উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের উদ্যোগে পরিচালিত এই বিতরণ কার্যক্রমে অভিযোগ ওঠে যে, ছাগলের প্রকৃত ওজনের চেয়ে বেশি দেখানোর জন্য ডিজিটাল ওজন মেশিনে অতিরিক্ত লোহার রিং ব্যবহার করা হয়েছিল। স্থানীয়দের দাবি, এতে প্রায় ১ কেজি ৭০০ গ্রাম অতিরিক্ত ওজন দেখানো সম্ভব হচ্ছিল।
উপকারভোগীরা জানান, বিতরণ করা কিছু ছাগলের ওজন পরে বাইরে মাপলে দেখা যায় সেগুলোর ওজন মাত্র সাড়ে তিন থেকে ছয় কেজির মধ্যে। অথচ নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটি ছাগলের ওজন কমপক্ষে আট কেজি হওয়ার কথা।
ঘটনার পর ক্ষুব্ধ উপকারভোগী ও স্থানীয় লোকজন সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহির দাবিতে অফিসের একটি কক্ষে আটকে রাখেন বলেও জানা গেছে।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের কর্মকর্তা কানিকা সরকার বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং যেসব ছাগলের ওজনে সমস্যা পাওয়া গেছে, সেগুলো পরিবর্তনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অন্যদিকে ঠিকাদার পক্ষের প্রতিনিধিরা স্বীকার করেছেন, কিছু ছোট আকারের ছাগল বিতরণে চলে আসতে পারে। তবে তারা দাবি করেন, বিষয়টি ইচ্ছাকৃত নয়।
এ ঘটনায় স্থানীয় আদিবাসী নেতারাও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর উন্নয়নের নামে অনিয়ম হলে প্রকল্পের উদ্দেশ্য ব্যাহত হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম ইসলাম জানিয়েছেন, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



