দেশবাংলা

হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গিয়ে লাঞ্চিত মুক্তিযোদ্ধা দম্পতি

||বেলাল হোসেন মিলন, বরগুনা||

 বরগুনার আমতলীতে মুক্তিযোদ্ধা অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংকার দম্পতি আলহাজ্ব গোলাম মোস্তফা ও তার স্ত্রী প্রধান শিক্ষিকা সেলুনা বেগম চিকিৎসা নিতে গিয়ে লাঞ্চিত  হয়েছেন।

রবিবার সন্ধ্যায় আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগে এ ঘটনা ঘটেছে।

আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার মিঠুন সরকার তাদের চিকিৎসা না দিয়ে লাঞ্চিত করে তাড়িয়ে দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন ওই মুক্তিযোদ্ধা দম্পতি।

এ ঘটনার বিচার চেয়ে ওইদিন রাতে উপজেলা স্বাস্থ্য প্রশাসক শংকর প্রসাদ অধিকারীর কাছে অভিযোগও করেন তারা। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত তারা এতে কোন প্রতিকার পায়নি।

 জানাযায়, আমতলী অগ্রনী ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপক (সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার) মুক্তিযোদ্ধা  আলহাজ্ব গোলাম মোস্তফা তার স্ত্রী কাউনিয়া ইব্রাহিম একাডেমী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সেলুনা বেগমকে নিয়ে চিকিৎসা করাতে রবিবার সন্ধ্যায় আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগে যান। ওই সময়ে জরুরী বিভাগে উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার হিসেবে দায়িত্বে ছিল মিঠুন সরকার নামে একজন।

মিঠুন সরকার প্রধান শিক্ষক সেলুনা বেগমের পায়ের কাটা আঙ্গুলের চিকিৎসা না দিয়ে জরুরী বিভাগের বসে মোবাইল ফোনে ফেইসবুক ব্যবহার করছিল। প্রায় আধা ঘন্টা ওই দম্পতি জরুরী বিভাগে বসে থাকেও কোন চিকিৎসা পাননি বলে অভিযোগ তাদের।

 এক পর্যায়ে মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব গোলাম মোস্তফা উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার মিঠুন সরকারের কাছে গিয়ে তার স্ত্রীকে চিকিৎসা করানোর কথা বলেন। এতে ক্ষিপ্ত হয় মিঠুন সরকার। এ নিয়ে কথা কাটাকাটির এক পর্যায় মিঠুন সরকার ও তার সহযোগী দি-একমি ফার্মাসিটিক্যাল কোম্পানীর বিক্রয় প্রতিনিধি রিয়াজ উদ্দিন বিশ্বাস ওই দম্পতির সাথে অসৌজন্যমূলক আচরন করেন এবং মারধর করতে তেড়ে আসে।

 পরে চিকিৎসা না দিয়ে জরুরী বিভাগ থেকে তারিয়ে দেয়া হয় তাদের।  লাঞ্চিত হয়ে ওই দম্পতি জরুরী বিভাগ থেকে এসে বাহিরে অন্য হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এর আগেও মিঠুন সরকারের বিরুদ্ধে নানাবিধ অভিযোগ রয়েছে। তিনি  উপজেলার গাজীপুর উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রের সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার হিসেবে কর্মরত থাকাকালীন ওই উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রে না গিয়ে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রেষনে দায়িত্ব পালন করছেন। এতে ওই এলাকার প্রায় অর্ধলক্ষ মানুষ চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত বলে দাবি এলাকাবাসীর।

প্রত্যক্ষদর্শী কাঠালিয়া দাখিল মাদরাসার দপ্তরী জাহাঙ্গীর মুছুল্লী জানান, প্রধান শিক্ষক সেলুনা বেগমকে চিকিৎসা না দিয়ে মিঠুন সরকার তার স্বামী অবসরপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপক গোলাম মোস্তফাকে লাঞ্চিত করে তারিয়ে দিয়েছে।

 এ বিষয়ে গোলাম মোস্তফা বলেন, স্ত্রী সেলুনা বেগমের পায়ের তিনটি কাটা আঙ্গুলের চিকিৎসার করাতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসি। দীর্ঘসময় আমার স্ত্রীকে চিকিৎসা না দিয়ে মোবাইল ফোনে ফেইসবুক দেখছিল কর্তব্যরত মিঠুন সরকার। আমি গিয়ে তাকে চিকিৎসা করানোর অনুরোধ করলেই তিনি ক্ষেপে যান এবং অসৌজন্যমূলক আচরন করেন। আমি এর প্রতিবাদ করলেই তিনি ও তার সহযোগীরা আমার দিকে তেড়ে আসেন এবং মারধরের চেষ্টা করেন। এ সময়, আমার স্ত্রীকে চিকিৎসা না দিয়ে পুলিশে ধরিয়ে দেয়ার ভয় দেখিয়ে জরুরী বিভাগ থেকে আমাদের তারিয়ে দেয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

আমি মিঠুন সরকারের এমন আচরনের বিষয়টি উপজেলা স্বাস্থ্য প্রশাসক শংকর প্রসাদ অধিকারীর কাছে অভিযোগ দিলেও তিনি এর কোন ব্যবস্থা নেননি বলেও জানান তিনি।

আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার মিঠুন সরকার চিকিৎসা না করার কথা স্বীকার করে বলেন, আমি কোন মুক্তিযোদ্ধা দম্পতিকে লাঞ্চিত করিনি। উল্টো তিনি আমাকে গালমন্দ করেছেন।

আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য প্রশাসক শংকর প্রসাদ অধিকারী বলেন, আমার কাছে মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফা মোবাইল ফোনে অভিযোগ করেছে। ওই অভিযোগের ভিত্তিতে সোমবার সকালে মিঠুন সরকারকে ডেকে এনে শাসিয়ে দিয়েছি যেন পুনরায় এমন ঘটনা না ঘটে।

বাংলাটিভি/এবি

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button
Close