বিএনপিরাজনীতি

বিএনপি নেতা তরিকুল ইসলাম মারা গেছেন

তরিকুল ইসলাম মারা গেছেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্নাইলাইহি রাজিউন)।

মৃত্যুকালে প্রবীণ রাজনীতিক, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রীর বয়স হয়েছিল ৭৮ বছর।

রোববার বিকেল ৫টায় রাজধানীর অ্যাপোলো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন

অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৩ বছর।

বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেস উইং সদস্য শায়রুল কবির খান জানান,

বিকেল ৫টা ৫মিনিটে রাজধানীর এ্যাপোলো হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তরিকুল ইসলাম।

টানা ১১ দিন ধরে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

প্রবীণ এ বিএনপি নেতার মৃত্যুতে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।

তরিকুল ইসলামের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, তিনি দীর্ঘদিন ধরে কিডনি জটিলতা,

ডায়াবেটিস, শ্বাসকষ্ট, উচ্চ রক্তচাপসহ বিভিন্ন রোগে ভুগছেন।

বর্তমানে তার কিডনি ডায়ালাইসিস চলছে।

এর আগে, গত বছর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে সিংগাপুরের মাউন্ট

এলিজাবেথ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। এছাড়া, গত কয়েকবছরে তিনি একাধিকবার সিংগাপুরে চিকিৎসা নিয়েছেন।

সাবেক এই মন্ত্রী দীর্ঘদিন ধরে কিডনি ও ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছিলেন।

চারদলীয় জোট সরকারের আমলে তথ্য মন্ত্রণালয়সহ একাধিক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেন তরিকুল ইসলাম।

যশোর-৩ আসন থেকে চারবার নির্বাচনে জিতে সংসদে যাওয়া তরিকুল ইসলাম চারদলীয় জোট সরকারের তথ্যমন্ত্রী এবং পরিবেশ ও বনমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।

বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটিতে আসার আগে তিনি সহ-সভাপতিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলেন।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র তরিকুল ইসলাম ছাত্র জীবনে বাম রাজনীতিতে যুক্ত ছিলেন। পরে তিনি জিয়াউর রহমানের সময়ে বিএনপিতে যোগ দেন।

অসুস্থতার কারণে কয়েক বছর ধরে দলীয় কার্যক্রমে অনেকটাই অনিয়মিত হয়ে পড়েছিলেন তরিকুল।

স্থায়ী কমিটির বৈঠকে শেষবার তিনি অংশ নেন গত ফেব্রুয়ারিতে, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া কারাগারে যাওয়ার আগে।

তরিকুল ইসলামের জন্ম ১৯৪৬ সালের ১৬ নভেম্বর, যশোরে। রাজনীতিতে হাতেখড়ি ছাত্রজীবনেই। যশোর এমএম কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন তিনি।

কলেজের শহীদ মিনার জরাজীর্ণ হওয়ায় ১৯৬২ সালে সহপাঠীদের শহীদ মিনার তৈরি করে পাকিস্তান সামরিক সরকারের রোষানলে পড়েন, গ্রেফতারও হন।

কারাগারে কমিউনিস্ট পার্টির নেতাদের সঙ্গে পরিচয়। সেই সূত্রে দীক্ষা বাম রাজনীতিতে।

১৯৬৩-৬৪ শিক্ষাবর্ষে ছাত্র ইউনিয়নের প্রার্থী হিসেবে যশোর এমএম কলেজ ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।

১৯৬৮ সালে আইয়ুববিরোধী আন্দোলনের জন্য রাজবন্দি হিসেবে যশোর ও রাজশাহীতে কারাভোগ

করেন দীর্ঘ ৯ মাস। ১৯৬৯ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে গণআন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়ায় গ্রেফতার হন।

কমিউনিস্ট পার্টির নীতি-আদর্শের সঙ্গে পুরোপুরি একমত হতে না পেরে তরিকুল

পরে বেছে নেন নতুন পথ। ১৯৭০ সালে মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টিতে যোগ দেন।

মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। পাকিস্তান সরকারের রোষানলে পরে কারাভোগ করেছেন,

দেশ স্বাধীনের পর বঙ্গবন্ধু সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদকারী হিসেবেও তাকে কারাবরণ করতে হয়েছে।

ভাসানী ন্যাপ থেকে জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক দল (জাগদল) হয়ে বিএনপির রাজনীতিতে যুক্ত হন বরেণ্য এ রাজনীতিক।

জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে বিএনপির ৭৬ সদস্যের প্রথম আহ্বায়ক কমিটির অন্যতম সদস্য তরিকুল ইসলাম। সেই সঙ্গে বিএনপির যশোর জেলা আহ্বায়কের দায়িত্ব পান।

১৯৮০ সালে জাতীয়তাবাদী দলের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

পরে পর্যায়ক্রমে তিনি দলের যুগ্ম মহাসচিব, ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব,

ভাইস চেয়ারম্যান ও ২০০৯ সালে অনুষ্ঠিত দলের পঞ্চম জাতীয় কাউন্সিলে স্থায়ী কমিটির সদস্য পদ পান।

এরশাদ আমলে গ্রেফতারের পর তিন মাস অজ্ঞাত স্থানে আটক ছিলেন তরিকুল ইসলাম।

পরে তাকে এক ষড়যন্ত্রমূলক মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়।

রাজনৈতিক জীবনে তিনি এমন মিথ্যা মামলা ও কারাভোগের শিকার হয়েছেন বারবার।

যশোরে উদীচী হত্যা মামলা, অধুনালুপ্ত রানার পত্রিকার সম্পাদক সাইফুল আলম মুকুল

হত্যাকাণ্ডসহ বিভিন্ন মামলায় আসামির তালিকায় যুক্ত করা হয়েছে তার নাম।

ওয়ান-ইলেভেনের সময় অন্য সিনিয়র রাজনীতিকদের মতো গ্রেফতার হন তরিকুল ইসলাম।

কারাভোগ করেন দীর্ঘ দেড় বছর।

মহাজোট সরকারের আমলেও নতুন নতুন মামলার আসামি হয়ে গ্রেফতার

ও কারাভোগ করেছেন। বিএনপিতে তার প্রভাব ও গুরুত্বের কারণে মামলা ও গ্রেফতারে বারবার টার্গেট হয়েছেন রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের।

বাংলাটিভি/এসএম/এবি

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button