দেশবাংলা

মা-বোনের হাতেই খুন হয় কলেজ ছাত্রী চমক

||ইয়াকুব নবী ইমন, নোয়াখালী||

পুলিশের তদন্তে বেরিয়ে এসেছে চমক হত্যার রহস্য। হিন্দু সহপাঠীর সাথে প্রেমই কাল হয় তার জন্য। সামাজিক সম্মান রক্ষার্থে মা ও বোন মিলে খুন করেন নোয়াখালীর সোনাপুর ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থী তাবাসসুম তানিয়া চমককে (২২)।

শনিবার দুপুরে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের  এ তথ্য দেন পুলিশ সুপার ইলিয়াছ শরীফ।

পুলিশ সুপার বলেন, সোনাপুর ডিগ্রি কলেজের হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের ৩য় বর্ষের ছাত্রী তানিয়া সহপাঠী তাপসের সাথে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পরে। বিষয়টি নিয়ে চিন্তিত ছিলো তার পরিবারের সদস্যরা।

হত্যাকাণ্ডের ১০ দিন আগে চমকের মা সাজেদা আক্তার নিপু মেয়ে চমক ও চাঁদনিকে বাসায় রেখে ঢাকায় যায়। এ সময় চমক সহপাঠী তাপসকে বাসায় ডাকে। তাপসের বাসায় উপস্থিতির বিষয়টি বোন চাঁদনি দেখে ফেলে।

হত্যাকাণ্ডের দিন (১১ নভেম্বর) চমকের মা ঢাকা থেকে বাসায় ফিরলে চাঁদনি বিষয়টি তাকে জানান। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে চমককে মারপিটের এক পর্যায়ে জ্ঞান হারায় ।

এরপর বোন আর মা মিলে গলাটিপে হত্যা নিশ্চিত করে লাশ বস্তায় ভরে বাড়ির পাশের ডোবায় ফেলে দেয় এবং থানায় নিখোঁজের জিডি করেন।

এর ৪ দিন পর ১৫ নভেম্বর পুলিশ বাড়ির পাশের ডোবা থেকে চমকের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করে।

নোয়াখালী পুলিশ সুপার ইলিয়াস শরীফ বিষয়টি তদন্তের জন্য জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ওসি আবুল খায়েরকে নির্দেশ দেন। গোয়েন্দা পুলিশ তদন্তে হত্যার সাথে মা বোনের জড়িত থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে শুক্রবার বিকালে চমকের মা, বোন ও মামা সোহেলকে আটক করে।

 আটকের পর তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করলে হত্যার সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে নেয়।

প্রেস ব্রিফিং কালে   নোয়াখালী সদর থানার ওসি আনোয়ার হোসেন, ডিবির ওসি আবুল খায়েরসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাটিভি/এসএম/এবি

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button
Close