ভারতে গরুর মাংস বিক্রি করায় মুসলিম ব্যক্তিকে জোর করে শূকরের মাংস খাওয়ানোর চেষ্টা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভারতের আসামে গরুর মাংস বিক্রির অভিযোগকে কেন্দ্র করে শওকত আলী নামে ৬৮ বছর বয়সী এক মুসলিম মাংস ব্যবসায়ীকে মারধর ও অপদস্থ করার অভিযোগ উঠেছে। এমনকি উত্তেজিত জনতার একাংশ তাকে জোরপূর্বক শূকরের মাংস খাওয়ানোর চেষ্টাও করে বলে অভিযোগ রয়েছে।
২০১৯ সালে আসামের বিশ্বনাথ চারিয়ালিতে এ ঘটনা ঘটে। শওকত আলী দীর্ঘ ৩৫ বছর ধরে ওই এলাকায় মাংসের ব্যবসা করে আসছিলেন। স্থানীয় একটি সাপ্তাহিক হাটে গরুর মাংস রান্না করে বিক্রি করার অভিযোগে একদল ব্যক্তি তাকে ঘিরে ধরে মারধর করে।
ঘটনার একটি ভিডিও সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও নিন্দার সৃষ্টি হয়। ভিডিওতে দেখা যায়, কাদাপানিতে ভরা রাস্তায় শওকত আলীকে ফেলে রেখেছে একদল লোক। এ সময় তার কাছে ব্যবসার লাইসেন্স, নাগরিকপঞ্জির নথি এবং তিনি বাংলাদেশি কি না, তা জানতে চাওয়া হয়।
একপর্যায়ে তাকে শাস্তি দেওয়ার কথা বলে প্যাকেটজাত শূকরের মাংস খাওয়ানোর চেষ্টা করা হয়। হামলায় গুরুতর আহত শওকত আলীকে পরে স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
এ ঘটনায় শওকত আলীর পরিবারের পক্ষ থেকে পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়া হয়। পুলিশ জানায়, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তবে প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত এ ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তারের তথ্য পাওয়া যায়নি। বাজার পরিচালনার দায়িত্বে থাকা করণ থাপা নামের আরেক ব্যক্তিও ওই জনতার হাতে হেনস্তার শিকার হন বলে জানা যায়।
উল্লেখ্য, আসামের গবাদিপশু সুরক্ষা আইন, ১৯৫০ অনুযায়ী, গবাদিপশু জবাইয়ের আগে স্থানীয় পশুচিকিৎসকের লিখিত অনুমতি নেওয়ার বিধান রয়েছে। কোন পশু জবাইয়ের উপযুক্ত, তা নির্ধারণের দায়িত্বও সংশ্লিষ্ট পশুচিকিৎসকের।
সূত্র: সংবাদ প্রতিদিন



