গ্রাম বাংলাদেশবাংলা

হত্যার পর এআই দিয়ে জীবিত দেখানো সেই শিক্ষার্থী পেল জিপিএ-৫

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি (ডিজিটাল): ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের দিনে আনন্দের বদলে কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার হেমনগর ইউনিয়নের উদ্যমপুর দক্ষিণপাড়া গ্রামের রাকিবুল ইসলামের পরিবারে। এইচএসসিতে রাকিবুল ইসলাম পেয়েছে জিপিএ-৫। এই সাফল্যের আনন্দ ভাগাভাগি করতে আর কোনো দিন বাড়ি ফিরবে না রাকিবুল।

নিহত রাকিবুল ইসলাম ওই গ্রামের খাদেমুল ইসলামের ছোট ছেলে।

রাকিবুল ইসলামের বড় ভাই জহিরুল ইসলাম জীবন ছোট ভাইয়ের জিপিএ-৫ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, ঘাটাইল ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষা শেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রস্তুতি নিতে ঢাকায় গিয়েছিলেন। স্বপ্ন ছিল উচ্চ শিক্ষা নিয়ে দেশের সেবা করবেন, মা-বাবার মুখ উজ্জ্বল করবেন। ছেলে ভালো ফল করলে বাড়িতে মিষ্টি বিতরণ করবেন। আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীদের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করবেন। কিন্তু সেই কাঙ্ক্ষিত দিন এসেছে এক বুক শোক নিয়ে। যে বাড়িতে আজ আনন্দের উৎসব হওয়ার কথা, সেখানে এখন শুধুই কান্না আর হারানোর বেদনা।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৬ সেপ্টেম্বর ঢাকায় রাকিবকে হত্যার অভিযোগে আব্দুল্লাহ মামুনকে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, হত্যার পর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে রাকিবকে জীবিত দেখিয়ে ভিডিও তৈরি করে পরিবারের কাছে পাঠানো হয় এবং মুক্তিপণ দাবি করা হয়। ছেলেকে জীবিত ফিরে পাওয়ার আশায় পরিবার চার লাখ টাকা দিলেও তাকে আর ফিরে পায়নি। পরে নীলফামারীর ডিমলা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান।

রাকিবুল ইসলামের বড় ভাই জহিরুল ইসলাম জীবন বলেন, আমার ভাইয়ের স্বপ্ন ছিল ব্যারিস্টার হবে। আমাদের সবার মুখ উজ্জ্বল করবে। পড়াশোনায় আমার ভাই খুবই মেধাবী ছিল। এসএসসিতেও জিপিএ-৫ পেয়েছিল। আমার ভাইকে নিয়ে স্বপ্ন দেখতাম। আজ এইচএসসির ফলাফল ঘোষণা হয়েছে। আমার ভাই জিপিএ-৫ পেয়েছে। কিন্তু আমার ভাই নাই।

তিনি আরও বলেন, যারা আমার ভাইকে হত্যা করেছে, তাদেরকে আইনের আওতায় এনে শাস্তি দেওয়া হোক। আমার ভাইয়ের হত্যার বিচার চাই।

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button