দেশবাংলা

খুলনায় সোনালি ধানে ভরেছে কৃষকের মন

||এম.ডি অসীম, খুলনা||

বাতাসে এখন শীতের গন্ধ। মাঠের পর মাঠ জোড়া সবুজ ধানের শীষগুলোতেও এখন সোনা রঙয়ের হাসি। অগ্রহায়ণ শুরুতেই সোনালি রোদে সেই হাসি আরও ঝলমল করে ওঠে।

মাঠ জুড়ে সোনালী আমনের সবুজের সমাহার। সবুজ ধানের বুক চিরে বেরিয়েছে ছড়া। ছড়াগুলো হয়েছে বড়, আর বড় হয়েছে কৃষকের স্বপ্ন। অনেক মাঠেই কাস্তে নিয়ে ধান কাটার উৎসবে নেমে পড়েছেন কৃষক। ফুরফুরে মনে ফসল ওঠানে তুলছেন তারা। আবহাওয়া ও পরিবেশ অনুকূল থাকায় এ বছরে ধানের ফলন বেশ ভালো হয়েছে।

খুলনার দাকোপ উপজেলার কামারখোলা ও সুতারখালী গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে, কুয়াশামাখা ভোর থেকে দলবেধে আইল ধরে কৃষক ছুটছেন জমিতে। দলবেধেই কাস্তে হাতে নেমে পড়ছেন ধান খেতে।

ধান কেটে আঁটি বেঁধে রাখছেন খেতের মাঝেই। বিকেল থেকেই সেই আঁটি বোঝা বেধেঁ মাথায় করে বাড়ি নেওয়া শুরু। মাঠে নারী কৃষকদের উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো। এ সময় কৃষকেরা বলেন, ‘এবার ধান ভালো হুয়েছে। যেদিক তাকাবা দ্যাখবা ধান আর ধান। এখন সবাই কেম্মায় ধান ঘরে তোলবে, তা নে ব্যস্ত’।

সুতারখালী গ্রামের কৃষক আবু বক্কার  বলেন, সাতবিঘা জমিতে আমন চাষ করেছি। বিঘা প্রতি খরচ হয়েছে ২৮শত টাকা। তবে খেতে ধান দেখেছি ভালো হয়েছে। আশা করি প্রতি বিঘায় ১৭ থেকে ১৮ মণ করে ধান পাবো। ভালো ধান হওয়ায় ভীষণ খুশি খোনা গ্রামের কৃষক লিটন বাওয়ালী। তিনি বলেন, বর্গা নিয়ে ২বিঘা জমিতে বিআর-২৩ জাতের ধান চাষ করেছি। ধানের ফলন বেশ ভালো। ধানের খেত দেখে মন ভরেছে।

উপজেলা কৃষি অফিস সুত্রে জানা যায়, প্রায় ১৯ হাজার হেক্টর জমিতে এ বছর আমন চাষ করা হয়েছে। এরমধ্যে বিআর-২৩, ১০, ১১, ব্রি-৩০, ৪৯, ৫১, ৫২, ৭২, ৭৩, ৭৬, ৭৭ সহ স্থানীয় কিছু উচ্চমূল্য জাতের ধান চাষ করা হয়েছে।

চালনা পৌরসভা, পানখালী, তিলডাঙ্গা ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত ৩১ নম্বর পোল্ডার। আর সুতারখালী ও কামারখোলা ইউনিয়ন নিয়ে ৩২ নম্বর পোল্ডারের কয়েকটি খেতে মাত্র শুরু করেছে ধান কাটা। তাছাড়া ৩৩ নম্বর পেল্ডারের কিছু বøকে উচ্চমূল্যের ফসল কাটা হয়েছে।

উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের অন্তত ২০ জন কৃষকের সাথে কথা বলে জানা যায়, অন্য বছরের তুলনায় এ বছর আমন ফসল অনেকটাই ভালো। ভরা মৌসুমে বৃষ্টি না হওয়ার কারনে ধান খেতে বেশ সমস্যা হয়েছিল।

তবে বিভিন্ন পদ্ধতিতে খেতে সেচ দেওয়ার মধ্যদিয়ে হঠাৎ বৃষ্টি নামার পরে সমস্যা উত্তোরণে মাঠে মাঠে ধানের ফলন ভালো। এরপরে কোন সমস্যা দেখা গেলে উপজেলা কৃষি অফিসকে অবহিত করা হতো।

কৃষি অফিস সঙ্গে সঙ্গে পরামর্শ দিয়ে সব ধরণের সমস্যার সমাধান করে দেয়। যে জন্য উপজেলার মাঠে মাঠে কৃষিতে বিল্পব ঘটে। চুনকুড়ি গ্রামের কৃষক শচীন্দ্রনাথ মন্ডল বলেন, এবার ২বিঘা জমিতে ব্রি-৭৬ ও মোটাজাতের ধান লাগিয়েছি। ফলনও ভালো হয়েছে। চলতি বছরে পর্যাপ্ত বর্ষা না হওয়ায় ধান খেতে জলশূন্যতা দেখা দিয়েছিল।

খেতের জমি ফেঁটে চৌচির হওয়ায় ফসলহানির আশষ্কাও করেছিলাম। কিন্তু ঈদ উৎসবের পূর্বমূহুর্তে মুষলধারে বর্ষার পানি জমে ধানের বাম্পার ফলন দেখে খুশি আছি।

দাকোপ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মেহেদী হাসান খান বলেন, আমন নির্ভীক দাকোপে এখন নানান ফসলে শস্যভান্ডারে পরিণত হয়েছে। চলতি আমন মৌসুমে, গেলবারের তুলনায় এবার ফসলের লক্ষমাত্রা ছাড়ানোর জন্য আমরা নতুন নতুন জাতের ধান দিয়েছি কৃষকদের।

তিনি আরও বলেন, শ্রমিক সংকট নিরসনের জন্য প্রযুক্তির যন্ত্র কিনতে উৎসাহিত করছি। কয়েক জন কৃষক ধান কাটার মেশিন ক্রয় করেছে। তারা ওই মেশিন দিয়ে ধানও কাটছে ।

বাংলাটিভি/এবি

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button
Close