আইন-বিচারবাংলাদেশ

সম্পন্ন হলো গুলশানের হলি আর্টিজান জঙ্গি হামলা মামলার আংশিক সাক্ষ্য গ্রহণ

রাজধানীর গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলার মামলার বাদীর আংশিক সাক্ষ্যগ্রহণের পর আজকের মতো মুলতবি করা হয়েছে। আগামীকাল আবারও জেরা শুরু হবে।

আজ  সোমবার দুপুরে ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী ট্রাইব্যুনালের বিচারক মজিবুর রহমানের আদালতে এ মামলার প্রথম সাক্ষী ও মামলার বাদী এসআই রিপন কুমার দাস সাক্ষ্য দেয়ার জন্য হাজির হলে আদালতে তার সাক্ষ্য শুরু করে।

বাদী এআই রিপন কুমার দাস জবানবন্দি দেওয়া সময় আদালতকে বলেন, সন্ত্রাসীরা আল্লাহ আকবার ধ্বনি দিয়ে গুলি বর্ষণ করে। এ ঘটনার সময় দুজন পুলিশ কর্মকর্তাসহ ২০ জন মারা যায়। বাংলাদেশের ভাবমূর্তি খুন্ন করার উদ্দেশ্যে এই সন্ত্রাসীমূলক কর্মকাণ্ড চালায়।

বিচারক মজিবুর রহমান বাদীর জবানবন্দি রেকর্ড করেছেন এবং আসামিপক্ষের আইনজীবী ফারুক আহমেদ বাদীদের জেরা শুরু করেন। আংশিক জেরা হওয়ার পর ঐ দিনের মতো তা মুলতবি করা হয়। আগামী কাল আবারও জেরা শুরু হবে।

এদিকে আজ এ মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ উপলক্ষে কারাগারে থাকা ছয় জঙ্গি জাহাঙ্গীর আলম ওরফে রাজীব গান্ধী, রাকিবুল হাসান রিগ্যান, রাশেদুল ইসলাম ওরফে র‌্যাশ, সোহেল মাহফুজ, মিজানুর রহমান ওরফে বড় মিজান ও হাদিসুর রহমান সাগরকে  হাজির করেছে পুলিশ।

প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালের ১ জুলাই রাতে গুলশান হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটে। হামলায় নয়জন ইতালিয়, সাত জাপানি, এক ভারতীয় ও দুই বাংলাদেশি নাগরিক নিহত হন। রাতভর সন্ত্রাসী ও জঙ্গি হামলার পরদিন সকালে সেনাবাহিনীর অপারেশন সার্চ লাইটের মাধ্যমে এর সমাপ্তি ঘটে। পরে সেখান থেকে পাঁচ জঙ্গির সাথে রেস্তোরার প্রধান শেফ সাইফুল ইসলামের লাশ উদ্ধার হয়। আর সাইফুলের সহকারী জাকির হোসেন শাওন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়।

একই ঘটনায় সন্ত্রাসী ও জঙ্গিদের ছোঁড়া গ্রেনেডের আঘাতে রেস্তোরাঁর বাইরে নিহত হন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের সিনিয়র সহকারী কমিশনার (এসি) রবিউল করিম ও বনানী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সালাউদ্দিন খান।

পাঁচ জঙ্গিসহ শেফ সাইফুল ইসলাম ও সহকারী শেফ শাওনের লাশ ঢাকা মেডিকেল কলেজের মর্গে দীর্ঘদিন পরে থাকার পর বেওয়ারিশ ঘোষণা করে আঞ্জুমান মফিদুল ইসলামের মাধ্যমে জুরাইন কবরস্থানে দাফন করা হয়।

বাংলাটিভি/এমআরকে

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button
Close