জাতীয় নির্বাচননির্বাচনবাংলাদেশরাজনীতি

শুরু হলো নির্বাচনি প্রচারণা, ভোটের হাওয়ায় সরগরম সারাদেশ

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গতকাল সোমবার চূড়ান্ত প্রার্থীদের মাঝে প্রতীক বরাদ্দ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এরপরই শুরু হয়েছে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা। সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তারা চূড়ান্ত প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দ দেওয়ার পর প্রার্থী এবং তার সমর্থকরা নির্বাচনী এলাকায় প্রচার প্রচারণা চালাতে পারবেন বলে নির্দেশ ছিল ইসির। তবে প্রচারের সময় আচরণ বিধিমালা লঙ্ঘন ঠেকাতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ইসি ইতোমধ্যে নির্দেশনা দিয়েছে।

প্রতীক বরাদ্দের পর রাজধানীসহ সারাদেশে শুরু হল জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচার-প্রচারণা। নানান আনুষ্ঠানিকতা ও প্রতিশ্রুতির মাধ্যমে শুরু করেন তাদের প্রচারণা। সোমবার দুপুরে, প্রতীক বরাদ্দ শেষ হবার পরপরই প্রার্থীরা কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে প্রচারে নামেন।

সোমবার বিকেল চারটায় রাজধানীর রমনায় নির্বাচনি প্রচারণা শুরু করেন ঢাকা-৮ আসনের মহাজোট প্রার্থী ও ওয়ার্কাস পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন। এ সময় নৌকা মার্কায় রাশেদ খান মেননকে ভোট দিয়ে জয়ী করার জন্য নেতাকর্মীরা স্লোগান দেন। রাশেদ খান মেনন ভোটারদের কাছে দোয়া ও ভোট চান।

একই আসনে রাজারবাগ থেকে নির্বাচনি প্রচারণা শুরু করেন বিএনপির প্রার্থী মির্জা আব্বাস। এ সময় তিনি জনগণের কাছে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট চান।

ঢাকা-৯ আসনের নৌকার পক্ষে প্রচারণা চালান প্রার্থী সাবের হোসেন চৌধুরী। একই আসনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রচারণায় মাঠে নামেন মির্জা আব্বাসের স্ত্রী আফরোজা আব্বাস। আর ঢাকা-১০ আসনে প্রচারণা শুরু করেন আওয়ামী লীগ প্রার্থী ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস।

এদিকে, নোয়াখালী-৫ আসনে নির্বাচনি প্রচারণা শুরু করেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। আর দিনাজপুর-২ আসনে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী নৌকায় ভোট চাওয়ার মধ্য দিয়ে নির্বাচনি প্রচারণা শুরু করেন।

অন্যদিকে, নারায়ণগঞ্জে নৌকা প্রতীক নিয়ে মিছিল বের করেন আওয়ামী লীগ প্রার্থী শামীম ওসমানের সমর্থকরা।

প্রতীক পাওয়ার পরপরই বরিশাল-৩ আসনে শুরু হয় নির্বাচনি প্রচারণা। মহাজোট প্রার্থী টিপু সুলতান ও স্বতন্ত্র প্রার্থী আতিকুর রহমান প্রচারণা শুরু করেন।

খুলনা-৩ আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী শেখ সালাউদ্দিন জুয়েল ও বিএনপি প্রার্থী রকিবুল ইসলাম বকুল শুরু করেন নির্বাচনি প্রচারণা। চট্টগ্রামে প্রতীক পাওয়ার পর বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা নির্বাচনি প্রচার প্রচারণা শুরু করেছে।

ঝালকাঠি-২ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমুর পক্ষে নৌকা প্রতীকের আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচার-প্রচারণা শুরু করেন দলের নেতাকর্মীরা।  পরে ঝালকাঠি-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী দলের কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমরের পক্ষে আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরু করেন দলীয় নেতা-কর্মীরা।

আওয়ামী লীগ প্রার্থীরা অবাধে নির্বাচনি প্রচারণা চলালেও গ্রেপ্তার আতংকে  মাঠে নামতে পারছে না বিএনপি ও তার শরীক প্রার্থীরা।

লক্ষীপুর-৩ আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী এ কে এম শাহজাহান কামাল নির্বাচনি প্রচারণা শুরু করেন। যুক্তফ্রন্টের প্রার্থী বিকল্পধারার সিনিয়র যুগ্ন মহাসচিব মাহী বদরুদ্দোজা চৌধুরী মুন্সিগঞ্জ-৩ আসনে নৌকা নিয়ে নির্বাচনি প্রচার শুরু করেন।

মৌলভীবাজার-৩ আসনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী নৌকার লিফলেট হাতে শহরের সেন্ট্রাল রোডে গণসংযোগ শুরু করেছেন। আর বিএনপি মনোনীত  প্রার্থী নাসের রহমান আদালত এলাকায় গণসংযোগ করেছেন। ফেনীতে প্রতীক পেয়ে নির্বাচনি মাঠে নেমে পড়েছেন আওয়ামী লীগ ও বিএনপির প্রার্থীরা।এছাড়া সারাদেশে প্রতীক পাওয়ার পরপরই নির্বাচনি প্রচারণা শুরু করেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দল।

এদিকে, আগামী ১২ই ডিসেম্বর টুঙ্গিপাড়া সফরের মধ্যে দিয়ে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্বাচনি প্রচারণা শুরু করবেন বলে জানিয়েছেন জাহাঙ্গীর কবীর নানক।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দল ও জোট মিলিয়ে ২৭২ জনকে নৌকা প্রতীক দেয়ার জন্য, নির্বাচন কমিশনে চিঠি দেয় আওয়ামী লীগ। অন্যদিকে, বিএনপি ও তাদের জোটসঙ্গী দলগুলো মিলিয়ে ২৯৮টি আসনে, ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী থাকছে। রবিবার নির্বাচন কমিশনে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা স্বাক্ষরিত চিঠিতে দলের একক প্রার্থী ও তার শরিকদের নৌকা প্রতীক দিতে ২৭২ জনের তালিকা ইসিতে জমা দেয়া হয়। এর মধ্যে আওয়ামী লীগের নেতা আছেন ২৫৮ জন।

এই ২৫৮ জনের পাশাপাশি ওয়ার্কার্স পার্টির পাঁচ, জাসদের তিন, তরিকত ফেডারেশনের দুই, বাংলাদেশ জাসদের এক ও বিকল্পধারার তিনজন নৌকা প্রতীকে ভোট করবেন।

অন্যদিকে, বিএনপি ও তাদের জোটসঙ্গী দলগুলো ২৯৮টি আসনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী থাকছে। ৩০০ আসনের মধ্যে ২৪২টিতে বিএনপি নিজ দলের প্রার্থীদের মনোনয়ন দিয়েছে। আর বাকি ৫৮ আসন ছেড়েছে ঐক্যফ্রন্ট ও বিশ দলীয় জোটের শরিকদের জন্য।

বাকি জোট সঙ্গীরা ধানের শীষ নিয়ে নির্বাচন করলেও, একমাত্র এলডিপির অলি আহমদ নিজ দলের প্রতীক ছাতা নিয়ে ভোটের লড়াইয়ে মাঠে নামবেন।

নির্বাচনী আচরণ বিধি অনুযায়ী, প্রতীক বরাদ্দের পর থেকে প্রচার কাজ শুরু করতে হবে। আর এটা বন্ধ করতে হবে ভোটগ্রহণ শুরু ৩২ ঘণ্টা আগে। অর্থাৎ ২৮ ডিসেম্বর মধ্যরাত ১২টা পর্যন্ত। সে হিসেবে এবার প্রার্থীরা ১৯ দিন প্রচার-প্রচারণা চালাতে পারবেন।

বাংলাটিভি/এমআরকে

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button
Close