
|| নজরুল ইসলাম ||
ঝালকাঠির একটি টার্কি মুরগির খামার বেকার যুবকদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। কম খরচে লাভজনক খামারটি দেখে টার্কি পালনে আগ্রহী হয়ে উঠেছে অনেকেই। সিঙ্গাপুর ফেরত দুই বন্ধুর এই টার্কি খামারটি এখন দৃষ্টান্তে পরিণত হয়েছে ।
প্রতিমাসে তাদের খামার থেকে মুরগি, বাচ্চা ও ডিম বিক্রি করে আয় হচ্ছে এক লাখ টাকারও বেশি। প্রাণী সম্পদ বিভাগ সূত্র জানিয়েছে, এ ধরনের খামারের প্রসার লাভ করলে তা দেশের আমিষের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি কর্মসংস্থান ও অর্থনীতিতে অবদান রাখবে।
উল্লেখ্য, বেকারত্ব থেকে মুক্তি পেতে কয়েক বছর আগে সিঙ্গাপুর গিয়েছিলেন ঝালকাঠির মোর্শেদুল ইসলাম। সেখানে গিয়ে পরিচয় হয় ঝিনাইদহের রাজিব হোসেনের সঙ্গে। দুই বন্ধু ইন্টারনেটে টার্কি মুরগির খামার দেখে উদ্বুদ্ধ হন।
টার্কি হচ্ছে বড় আকারের গৃহপালিত মুরগি। এদের উৎপত্তিস্থল উত্তর আমেরিকায়। ইউরোপসহ বিভিন্ন দেশে টার্কি পালন করা হয়। ঐসব দেশে আমিষের চাহিদা পূরণে অন্যতম ভূমিকার রাখছে টার্কি মুরগী। বাংলাদেশেও এর বিস্তার ঘটতে শুরু করেছে।
২০১৭ সালে দেশে ফিরে নিজেরাই খামার করার উদ্যোগ নেন এই দুই যুবক। পরে ঝালকাঠি শহরের পূর্বচাঁদকাঠি এলাকায় এক একর জমিতে পাঁচ লাখ টাকা খরচ করে গড়ে তোলেন টার্কি মুরগির খামার। বর্তমানে তাদের খামারে এক হাজার টার্কি মুরগি রয়েছে। ছয় মাস মধ্যে টার্কি ডিম দেয় এই সময়ে মেয়ে টার্কির ওজন হয় পাঁচ থেকে ছয় কেজি আর পুরুষগুলো প্রায় আট কেজি হয়। চর্বি কম ও খেতে সুস্বাদু হওয়ায় স্থানীয়দের কাছে টার্কির প্রচুর চাহিদা রয়েছে। এ জাতিয় মুরগী ঘাস পাতা খেতে বেশি পছন্দ করে বলে লালন পালন খরচ অনেকটা কম। টার্কি, বাচ্চা ও ডিম বিক্রি করে খামার থেকে বছরে আয় হচ্ছে প্রায় ১৫ লাখ টাকা। কম পূঁজিতে লাভ বেশি হওয়ায় খামারটি দেখে টার্কি পালনে আগ্রহী হয়ে উঠেছে অনেকেই।
উদ্যোক্তারা জানান, খামারে ইনকিভেটরের মাধ্যমে তাপ দিয়ে বাচ্চা ফোটানো হয়। কখনো দেশীয় পদ্ধতিতেও বাচ্চা ফোটে। এক দিনের একটি বাচ্চা ৩০০ টাকা, ডিম একটি ১০০ টাকা এবং পরিণত টার্কি ৪০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করা হয় খামার থেকে।
প্রাণী সম্পদ বিভাগ সূত্র জানিয়েছে, প্রাবাসি যুবকরা প্রযুক্তিগত ধারনা নিয়ে দেশে ফিরে তার প্রয়োগ করছেন এটি তার একটি। এ ধরনের খামারের প্রসার লাভ করলে তা দেশের আমিষের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি কর্মসংস্থান ও অর্থনীতিতে অবদান রাখবে।
বাংলাটিভি/প্রিন্স



