জাতীয় নির্বাচনরাজনীতি

নির্বাচন জাতির কলঙ্কজনক অধ্যায় : কাদের সিদ্দিকী

একাদশ জাতীয় নির্বাচন জাতির ইতিহাসে এক কলঙ্কজনক অধ্যায় হিসেবে অভিহিত করেন করে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি আবদুল কাদের সিদ্দিকী।বুধবার রাজধানীর মোহাম্মদপরে নিজ বাসায় এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি। সংবাদ সম্মেলনে দলের যুগ্ম-সম্পাদক ইকবাল সিদ্দিকী লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে দলের সভাপতির পক্ষে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ‘লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতা আবার নতুন করে মহাসংকটে নিপতিত হলো। ক্ষমতাসীনদের সীমাহীন লোভ দেশ ও দেশের মানুষকে আজকের অবস্থায় এনে ফেলেছে। ৩০ শে ডিসেম্বরের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সরকার, নির্বাচন কমিশন ও সরকার দলীয় সন্ত্রাসীরা যে নির্লজ্জ ভোট ডাকাতির দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে তা এ জাতির ইতিহাসে এক কলঙ্কজনক অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হবে বলে মনে করে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ।’

সংবাদ সম্মেলনে আরো বলা হয়, নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে ২০১৪ সালের ৫ই জানুয়ারির নির্বাচন এ দেশের অধিকাংশ রাজনৈতিক দল বর্জন করেছিল। ফলে ১৫৩ জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এবং অন্যরাও খুবই নগণ্য ভোটে গত সংসদে নির্বাচিত হয়, যা ছিল ন্যায় ও সত্যের বিচারে অবৈধ। এ বছর নানা টানাপোড়েন থাকলেও দেশের প্রায় সকল রাজনৈতিক দল একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছিল। কিন্তু সরকার ও নির্বাচন কমিশন সংবিধান এবং ন্যূনতম নীতি-নৈতিকতাকে পদদলিত করে এই নির্বাচনকে সম্পূর্ণ প্রহসনে পরিণত করেছে। তফসিল ঘোষণা থেকে শুরু করে প্রতিটি বিষয়ে বিরোধী দলের দাবি দাওয়া ও প্রস্তাবকে অগ্রাহ্য করা হয়েছে। তারপরও নির্বাচনকে অংশগ্রহণমূলক এবং জনগণের ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনার স্বার্থে আমরা এই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করি। কিন্তু সমস্ত আইন-কানুন ও সংবিধানকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে আমাদের নেতাকর্মীদের নামে গায়েবি মামলা ও পুলিশি হয়রানি করে নির্বাচনের মাঠ থেকে সরিয়ে দিয়ে ফাঁকা মাঠে গোল দেয়ার সব রকমের অপচেষ্টা করা হলেও নির্বাচনী মাঠে থাকার ব্যাপারে আমরা দৃঢ় প্রতিজ্ঞ ছিলাম। পদে পদে গ্রেফতার, নির্যাতন, ভয়-ভীতি, হুমকি-ধমকি উপেক্ষা করে আমাদের কর্মী সমর্থকেরা মাটি কামড়ে নির্বাচনী মাঠে থাকার চেষ্টা করেছে।

অন্যদিকে, সকাল থেকেই বিভিন্ন কেন্দ্রে ধানের শীষের এজেন্টদের ঢুকতে বাধা দেয়া হয়। এ ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সরকারি দলের ক্যাডারের ভূমিকা পালন করে। সব কিছু মিলিয়ে সরকার ও নির্বাচন কমিশন ভোটের মৃত্যু ঘটায়, যা কোনো গণতান্ত্রিক দেশে সংগঠিত হওয়া অসম্ভব। মানুষের ভোটাধিকার হরণের মাধ্যমে দেশের মানুষের যে ঘৃণা আওয়ামী লীগ তথা বঙ্গবন্ধুর কন্যা অর্জন করলেন তা দেখে আমরা মর্মাহত এবং আতঙ্কিত। যখন স্বাভাবিক পরিবর্তনের পথ রুদ্ধ হয় তখনই অস্বাভাবিক পরিস্থিতির উদ্ভব ঘটে, যা আমাদের কারোরই কাম্য নয়। তাই দেশের ও মানুষের স্বার্থে এই নির্লজ্জ ভোট ডাকাতির নির্বাচন বাতিল করে অবিলম্বে নির্দলীয় সরকারের অধীনে নতুন জাতীয় নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে সরকার ও নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহবান জানাচ্ছি।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি  বঙ্গবীর আবদুল কাদের সিদ্দিকী, সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান তালুকদার প্রমুখ।

বাংলাটিভি/পাইক

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button