তামাক নিয়ন্ত্রণে দ্রুত পঞ্চবাষিকী পরিকল্পনা চুড়ান্ত করার আহবান

তামাক নিয়ন্ত্রণে দ্রুত পঞ্চবাষিকী পরিকল্পনা চুড়ান্ত করে তা বাস্তবায়নের জন্য জনপ্রতিনিধিদের প্রতি আহবান জানিয়েছেন তামাকের নিয়ন্ত্রনে কাজ করা সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।৭ জানুয়ারী সোমবার বেলা ১১টার দিকে রাজধানীর রায়েরবাজার ডাব্লিউবিবি ট্রাস্টের কৈবর্ত সভাকক্ষে “তামাক নিয়ন্ত্রণের বর্তমান অবস্থা ও করণীয়” শীর্ষক মতবিনিময় সভায় এ অভিমত ব্যাক্ত করা হয়। এসময় তারা ২০৪০ সালের মধ্যে দেশকে তামাক মুক্ত করতে সরকারের নেয়া পদক্ষেপের বাস্তবায়নে আরো আন্তরিক হওয়ার পরামর্শ দেন।পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলনের (পবা) সভাপতি আবু নাসের খানের সভাপতিত্বে এই মতবিনিময় সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ডাব্লিউবিবি ট্রাস্টের প্রকল্প ব্যবস্থাপক সৈয়দা অনন্যা রহমান। সভাটির সঞ্চালনায় ছিলেন শারমিন আক্তার।
পবা সভাপতি আবু নাসের খান বলেন,২০৪০ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে তামাকমুক্ত হিসেবে গড়ে তুলতে হলে নতুন চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবেলা করতে হবে। তামাক নিয়ন্ত্রণে সরকারকে দ্রুত পঞ্চবাষিকী পরিকল্পনা চুড়ান্ত করতে হবে। সেই সাথে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে জনপ্রতিনিধিদের যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহন করতে হবে। সরকারের নেয়া সুনিদিষ্ট পরিকল্পনা তামাক নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশের অর্জন আরো বাড়িয়ে দেবে বলেও জানান তিনি।
ডাব্লিউবিবি ট্রাস্টের পরিচালক গাউস পিয়ারী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তামাকমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করলেও এটি বাস্তবায়ন করার দায়িত্ব আমাদের সবার। খুচরা সিগারেট ক্রয়-বিক্রয়ের ফলে সরকার রাজস্ব প্রাপ্তি হতে বঞ্চিত হচ্ছে এবং ছবিসহ স্বাস্থ্য সতর্কবানী প্রদানের উদ্দেশ্য ব্যহত হচ্ছে। তামাকজাত দ্রব্যের কার্টনগুলোতে আইন অনুসারে কোন ধরনের ছবিসহ স্বাস্থ্য সর্তকবাণী প্রদান করা হচ্ছে না এবং সিগারেট ছাড়াও কার্টনগুলোতে বিভিন্ন ধরনের পন্য পরিবহন করা হচ্ছে। তামাকের খুচরা বিক্রি বন্ধ করতে হবে এবং সিগারেটের কার্টনগুলোতেও সর্তকবাণী প্রদান করতে হবে।
এ্যডভোকেট সৈয়দ মাহবুবুল আলম বলেন, তামাক কোম্পানিগুলো শুধু জনস্বাস্থ্য, পরিবেশ ও অর্থনীতির জন্যই হুমকি নয়,তাদের কার্যক্রম আমাদের দেশীয় ও আন্তর্জাতিক তামাক নিয়ন্ত্রণের অঙ্গীকারকেও চ্যালেঞ্জ করছে। তামাক কোম্পানিগুলোর দাবি অনুসারে কর বৃদ্ধির উদার নীতি বা নমনীয়নীতি গ্রহণ করে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব নয়। কর বৃদ্ধির পাশাপাশি তামাক নিয়ন্ত্রণে দীর্ঘ মেয়াদী কৌশলগত পরিকল্পনা গ্রহণ করা প্রয়োজন।
ঢাকা জেলার সাবেক সিভিল সার্জন ডা. মুশফিকুর রহমান বলেন,তামাক ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে আমাদের নিজ নিজ অবস্থান থেকে উদ্যোগ নিতে হবে। তামাক নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের পাশাপাশি রাজনৈতিক সদইচ্ছার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। সরকার জনস্বাস্থ্য উন্নয়নে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন প্রণয়ন করেছেন। সারাদেশে এ আইনটির বাস্তবায়ন জোরদার করে আইন লংঘনকারী তামাক কোম্পানীগুলোর বিরুদ্ধে সাস্তিমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
বিআরটিএর সাবেক চেয়ারম্যান আইয়ূবুর রহমান বলেন, তামাক কোম্পানিগুলো যখন রাজস্বের যুক্তি দিয়ে কর বৃদ্ধির বিরোধীতা করছে, ঠিক তখন বাস্তবতা হচ্ছে বাংলাদেশে অসংক্রামক রোগের কারনে (হৃদরোগ, স্ট্রোক, ক্যান্সার, ডায়বেটিস) মৃত্যু ৬৭% এ এসে দাড়িয়েছে। ভয়াবহ এসকল রোগের চিকিৎসা করতে গিয়ে বহুলোক দরিদ্রতার শিকার হচ্ছে। এই বাস্তবতায় তামাক নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহনের পাশাপাশি গবেষনা ও মনিটরিং করা প্রয়োজন।
মতবিনিময় সভায় একলাব, এইড ফাউন্ডেশন, বাচঁতে শিখ নারী, ইপসা, সুপ্র, কারিতাস, সিএফএ, আইডাব্লিউবি, হিমু পরিবহন, বাংলাদেশ গালস গাইড এসোসিয়েশন, সুপ্র, প্রত্যাশা,নাটাবসহ বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহন করেন।
বাংলাটিভি/পাইক



