অন্যান্যআইন-বিচার

ঋণ খেলাপি ও অর্থপাচারকারীদের তালিকা প্রকাশ করতে হাইকোর্টের নির্দেশ

গত ২০ বছর ধরে ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে যারা ফেরত দেননি এবং যারা বিদেশে অর্থ পাচার করেছে তা নির্ণয়ে একটি শক্তিশালী কমিটি গঠনের নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে ঋণ খেলাপি ও অর্থ পাচারকারীদের তালিকা প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

বুধবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) এক রিট আবেদনের প্রেক্ষিতে বিচারপতি এফআরএম নাজমুল আহসান ও বিচারপতি কেএম কামরুল কাদেরের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। রিটের শুনানির সময় আদালত বলেন, বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে এরইমধ্যে অর্থনৈতিকভাবে একটি নাজুক পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হয়েছে। এই পরিস্থিতি খুব দ্রুত বন্ধ করে অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করে একটি শক্তিশালী জায়গায় নিয়ে আসতে প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা নিতে হবে।প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, অর্থ মন্ত্রণালয়ের সচিব, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরসহ সব সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালককে এই জবাব দিতে বলা হয়েছে। আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন এ বি এম আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার।

গত এক দশক ধরেই ব্যাংকে খেলাপি ঋণ, ঋণের নামে অর্থ লোপাটের ঘটনায় তুমুল আলোচনা চলছে। এক দশকে বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রায় সব সূচক ঊর্ধ্বমুখী থাকলেও এই বিষয়টি বিব্রতকর হয়েছে সরকারের জন্য। বর্তমান সরকার ২০০৯ সালে ক্ষমতা গ্রহণের সময় দেশে খেলাপি ঋণের পরিমান ছিল ২২ হাজার কোটি টাকা। এখন সেই খেলাপি ঋণের পরিমান ৯৯ হাজার কোটি টাকার বেশি। সেইসাথে অবলোপন করা ঋণ দাঁড়িয়েছে ৩৭ হাজার কোটি টাকায়।

খেলাপি ঋণের পাশাপাশি বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগও উঠেছে। অর্থপাচার ও খেলাপি ঋণের রিটের শুনানিতে আদালত বলে,‘সরকারি এবং বেসরকারি ব্যাংকে নিয়ম-নীতি মেনে ঋণ দেওয়ার কথা ছিল। যদি তা না-মানা হয়,যারা যারা ঋণ গ্রহণ ও অর্থপাচার করেছেন,তাদের তালিকা এবং তাদের আত্মসাৎ করা অর্থ উদ্ধার করে একটি প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করতে হবে। ওই আত্মসাতের অর্থ দেশ কিংবা বিদেশের যেখানেই থাকুক না কেন,তা ফিরিয়ে আনতে কী কী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে,তাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করতে হবে।

একজন বিচারক বলেন,‘সরকারি এবং বেসরকারি ব্যাংকিং খাতে এরই মধ্যে অর্থনৈতিকভাবে একটি নাজুক পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। এই পরিস্থিতি খুব দ্রুত বন্ধ করতে হবে। অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করে একটি শক্তিশালী জায়গায় নিয়ে আসতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।’  গত ২৩ জানুয়ারি ব্যাংকিং খাতে অর্থ আত্মসাৎ, ঋণ অনুমোদনে অনিয়ম, প্রাইভেট ও পাবলিক ব্যাংকগুলোতে ব্যাংক ঋণের ওপর সুদ মওকুফের বিষয়ে তদন্ত এবং তা বন্ধে সুপারিশ প্রণয়নের জন্য কমিশন গঠন করার অনুরোধ জানিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরসহ পাঁচটি মন্ত্রণালয়ের সচিবদের একটি আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছিল। নোটিশে সাত দিনের মধ্যে ব্যাংকিং খাতে অনিয়মের বিষয় তদন্ত ও প্রতিরোধে সুপারিশ প্রণয়নে ১৯৫৩ সালের ইনকোয়ারি কমিশন অ্যাক্টের অধীনে একটি কমিশন গঠনের অনুরোধ জানানো হয়। কিন্তু সেই নোটিশের কোনও সদুত্তর না পেয়ে হাইকোর্টে রিট করেন মনজিল মোরসেদ।

 

বাংলাটিভি/রাজ

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button
Close