ইতালি যাওয়ার পথে নৌকাডুবে ৩৫ বাংলাদেশীসহ অন্তত ৬৫ জন নিহত

ভূমধ্য সাগর পাড়ি দিয়ে অবৈধভাবে ইতালি যাওয়ার পথে নৌকাডুবে অন্তত ৬৫ জন মারা গেছেন। তাদের মধ্যে অন্তত ৩৫ জন বাংলাদেশী ছিলেন বলে জানা গেছে। শুক্রবার তিউনিসিয়া উপকূলে ওই নৌকাডুবির পর বেশ কয়েকজন জীবিত মানুষকে উদ্ধার করা হয়ছে। যাদের মধ্যে বিলাল আহমেদ নামে এক বাংলাদেশি মর্মান্তিক ও ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা জানাল। বিলাল বলেন, “আমি যখন জীবন বাঁচানোর চেষ্টারত ঠিক তখনই দেখলাম একজন একজন করে তারা ডুবে যেতে লাগল, হারিয়ে গেল সাগরের নিচে”।
বেঁচে যাওয়া ৩০ বছর বয়সী কৃষক বলল এই নৗেকাডুবিতে আমি দুই স্বজনকে হারিয়েছি।
ভূমধ্য সাগরে এই নৌকাডুবিতে সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার চার যুবক মারা গেছেন এবং আরও দুজন নিখোঁজ বলে এলাকায় তাদের স্বজনরা জানিয়েছেন।
তারা হলেন, ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার মহদিপুর গ্রামের সিরাজ মিয়ার ছেলে লিটন আহমদ (২৪), মনতু মিয়ার ছেলে আহমদ মিয়া (২৫), একই গ্রামের হারুন মিয়ার ছেলে আব্দুল আজিজ (২৪) ও মানিককুনা গ্রামের আফজাল মাহমুদের ছেলে মারা যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। আহসান হাবিব শামীম ও কামরান আহমেদ মারুফ নামের আরও দুই যুবক নিখোঁজ রয়েছেন। মারুফ সিলেটের গোলাপগঞ্জের শরীফগঞ্জ ইউনিয়নের কুদুপুর গ্রামের ইয়াকুব আলীর ছোট ছেলে। আহসান হাবিব শামীমের বাড়ি মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায়।
মাছুম ও বেলালের মতো অন্তত ১৬ জনকে তিউনিসিয়ার জেলেরা সাগর থেকে উদ্ধার করে বলে রেড ক্রিসেসিন্টেরে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
একজন কর্মকর্তা বলেন, “উদ্ধার হওয়ারা বলেছেন, রাত থেকে ভোর পর্যন্ত অন্তত আট ঘণ্টা তারা সাগরের ঠাণ্ডা জলে ভাসছিলেন। জেলেরা তাদের দেখে উদ্ধার করেন। বিবিসি বাংলা জানিয়েছে উদ্ধার হওয়া ১৬ জনের মধ্যে ১৪ জন বাংলাদেশেী। জানা গেছে, সংঘাতময় লিবিয়ার জুয়ারা থেকে গত ৯ মে বৃহস্পতবিার সন্ধ্যায় বড় একটি নৌকায় রওনা হয়েছিলেন এই অবৈধ অভিবাসীরা। ওই নৌকায় অন্তত ৫১ জন বাংলাদেশী ছিলেন বলে বেঁচে যাওয়াদের তথ্য। বাকিদের মধ্যে তিনজন মিশরীয়, কয়েকজন মরক্কোর এবং অন্যরা আফ্রিকার নানা দেশের।
এম, হাবিল, বাংলা টিভি ঢাকা।



