‘নাইন-ইলেভেন’ হামলার ১৮ বছর

‘নাইন-ইলেভেন’ নামে পরিচিত ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর। জঙ্গি সংগঠন আল-কায়েদার ১৯ জঙ্গি জেট ফুয়েল ভর্তি আমেরিকান এয়ারলাইনসের চারটি উড়োজাহাজ ছিনতাই করে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান তিনটি স্থানে। দুটি উড়োজাহাজ আঘাত হানে টুইন টাওয়ারের ৮০তম তলায়।
প্রথম হামলার প্রায় পৌনে এক ঘণ্টা পর তৃতীয় উড়োজাহাজটি আক্রমণ করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সদর দপ্তর পেন্টাগনে। আর চতুর্থ বিমানটি ছিনতাই হওয়ার পর পেনসিলভানিয়ায় একটি ফাঁকা মাঠে বিধ্বস্ত হয়। ধারণা করা হয়, হামলাকারীদের আর্থিক মদদ দিয়েছিল ওসামা বিন লাদেনের সংগঠন আল-কায়েদা।
নাইন-ইলেভেনের হামলার পরপরই যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। এক মাসেই চাকরি হারান ১ লাখ ৪৩ হাজার মানুষ। হামলার পর প্রথম দিনেই নিউইয়র্ক স্টক এক্সচেঞ্জে বড় ধস নামে। ধারণা করা হয়, ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে হামলায় আনুমানিক ৬০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার সমমূল্যের ক্ষতি হয়েছিল।
টুইন টাওয়ারে প্রথম হামলার সঙ্গে সঙ্গেই নিহত হন শত শত মানুষ, ভবনের ভেতরে আটকে পড়েন আরও অসংখ্য মানুষ। এর ১৮ মিনিট পরে, দ্বিতীয় বিমানটি হামলা চালালে ভবনটি ভেঙে পড়ে। ভবনটি ধসে পড়ার সময় ভেতরে যাঁরা ছিলেন, তাঁদের মধ্যে মাত্র ছয়জনকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছিলো। প্রায় ১০ হাজার মানুষকে গুরুতর আহত অবস্থায় বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
দ্বিতীয় দফায় পেন্টাগনে হামলায় ১২৫ জন সামরিক কর্মকর্তা ও বেসামরিক নাগরিক নিহত হন বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে জানানো হয়। এছাড়া জিম্মি করা বিমানটির ভেতরে থাকা ৬৪ জনও নিহত হন। আর চতুর্থ বিমানটি একটি ফাঁকা মাঠে বিধ্বস্ত হলে ভেতরে থাকা ৪৪ জন যাত্রীর সবাই মারা যান।
এই হামলায় ১৯ জন হামলাকারীসহ মোট ২ হাজার ৯৯৬ জন নিহত হন। এর মধ্যে শুধু ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে চালানো দুটি বিমান হামলায় মারা যান ২ হাজার ৭৬৩ জন। আটকে পড়া লোকজনকে উদ্ধার করতে গিয়ে ৩৪৩ জন দমকলকর্মী এবং ৬০ জন পুলিশ সদস্যও নিহত হন।
৪টি হামলায় সম্মিলিতভাবে ৭৮টি দেশের মানুষ নিহত হন। ভয়াবহ এই হামলায় প্রাণ হারান প্রায় তিন হাজার মানুষ। এই সন্ত্রাসী হামলার পর থেকেই সন্ত্রাসবাদ দমনে আরও কঠোর হয় যুক্তরাষ্ট্র। তথ্যসূত্র: প্রথম আলো
বাংলাটিভি/ এসনূর



