Uncategorized

মিড ডে মিল কার্যক্রমে বেড়েছে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি

হামিদুর রহমান, মাধবপুর : সফলতা পেতে শুরু করেছে হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং মাদ্রাসাগুলোয় মিড ডে মিল কার্যক্রম। বেড়েছে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি, পড়াশোনায় মনোযোগী হচ্ছে তারা। কমেছে ঝড়ে পড়ার সংখ্যাও।

এক সময় শিক্ষার্থীরা স্কুলে এসে বাইরের অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরী খাবার খেয়ে প্রায়ই অসুস্থ হয়ে পড়তো। ২০১৯ সালের শুরুর দিকে মিড ডে মিল কার্যক্রম চালু হওয়ার পর থেকেই সফলতা পেতে শুরু করেছে হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর উপজেলার সকল মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং আলীয়া মাদ্রাসাগুলোতে। এই পদ্ধতিতে শিক্ষার্থীরা বাসা থেকে খাবার নিয়ে আসায় এখন আর পুষ্টিহীনতায় ভূগছে না তারা। এতে বেড়েছে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি পাশাপাশি পড়াশুনায় হয়েছে মনযোগী। এমনকি কমেছে ঝড়ে পরার হারও।

শিক্ষার মান উন্নয়ন ও পুষ্টিহীনতা রোধ করতে ২০১৯ সালের শুরুর দিকে পরীক্ষামূলকভাবে মাধবপুর উপজেলার কয়েকটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়তে মিড ডে মিল কার্যক্রম চালু করা হয়। পর্যাক্রমে জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের মহাপরিচালকের নির্দেশনায় উপজেলার ২৭ টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং ৫টি আলীয়া মাদ্রাসাতে এখন মিড ডে মিল চালু রয়েছে। এতে বিদ্যালয় এবং মাদ্রাসাতে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির চিত্র পাল্টে গেছে।

শিক্ষার্থীরা জানায়, আগে পেটে ক্ষুধা নিয়ে স্কুলে আসতাম। অনেক সময় না খেয়ে ক্লান্ত হয়ে পড়তাম। পড়ালেখায় মনোযোগ থাকতো না। এই মিড ডে মিল চালু হওয়ায় স্কুলে আসতে ভাল লাগে এবং মজা পাই।

ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মজিবুর রহমান বাহার বলেন, শিক্ষার মান উন্নয়নে মাধবপুর উপজেলায় মিড ডে মিল কর্মসূচি চালু হওয়ার পর আমাদের অপরুপা মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যায়তনে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির হার বৃদ্ধি পেয়েছে তাতে আমরা আনন্দিত। দীর্ঘসময় ছাত্রীরা বিদ্যালয়ে উপস্থিত থেকে না খেয়ে ক্লান্ত হয়ে পড়তো।

কিন্তুু মিড ডে মিল চালু হওয়াতে শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীরা সবাই আনন্দ করে দুপুরের খাবার খায় এবং পাঠে মনোযোগী থাকে। মিড ডে মিল কার্য্যক্রমটি চালু রাখতে সচেতন মহলকে এগিয়ে আসার আহব্বান জানান এই প্রধান শিক্ষক।

উপজেলার ২৭ টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে মিড ডে মিল চালুর সফলতা পাওয়া গেছে জানিয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবুল হোসেন বলেন, গ্রামাঞ্চলের অধিকাংশ মানুষই দারিদ্র্য সীমার নিচে বসবাস করে। ফলে অনেকে নিজ সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে আগ্রহী হয়ে ওঠেন না। কিন্তু বিভিন্ন বিদ্যালয়ে মিড ডে মিল কার্যক্রম চালু হওয়ায় বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের ভর্তির হার এবং উপস্থিতি সন্তোষজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।

কমেছে ঝড়ে পরার হারও। এমনকি শিক্ষার্থীরা এখন পুষ্টিহীনতায় ভূগছে না। তাই এ কার্য্যক্রমটি চালু রাখার জন্যে সমাজের সচেতন মহলকে এগিয়ে আসার আহব্বান জানাচ্ছি।

বাংলাটিভি/ নূর

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button
Close