দেশবাংলা

ফটিকছড়িতে ৫শ বিদেশী ফলের বাগান

পাহাড়ি পতিত জমিতে মাল্টা ও কমলার মতো বিদেশী ফল চাষে নিরব বিপ্লব ঘটছে চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে। ৫ বছরের ব্যবধানে পরিকল্পিতভাবে অন্তত ৫ শো বিদেশী ফলের বাগান গড়ে উঠেছে এই একটি উপজেলাতেই।

চাষিরা বলছেন, পতিত জমিতে কম পরিশ্রম ও খরচে ভালো ফলন হওয়ার পাশাপাশি বাজারে ভালো দাম পাওয়ায় খরপোশা কৃষির পরিবর্তে কমার্শিয়াল কৃষিতে ঝুঁকছেন তারা। আর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর বলছে, কৃষি বিভাগ থেকে সামান্য কিছু পরামর্শ নিয়ে পতিত জমি গুলোতে এই ধরণের ফলের চাষ করলে দেশের চাহিদা মিটিয়ে রপ্তানিও করা সম্ভব হবে।

বছরে ৩ কোটি ৬৭ লাখ ৫৬০ হাজার কেজি মাল্টার চাহিদা আছে বাংলাদেশে। যার প্রায় পুরোটায় আমদানী নির্ভর। কিন্তু হালে বিদেশী এই ফলটি চাষের বিপুল সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে বাংলাদেশে। আর এর জন্য উর্বর ফসলী জমির প্রয়োজন হচ্ছে না। পতিত জমিতেও পরিকল্পীত চাষে বিপুল ফলন পাচ্ছে চট্টগ্রামের চাষিরা।

ক’বছর আগেও পরিত্যক্ত জংলী এলাকাটি এখন মাল্টা বাগানে পরিণত হয়েছে। প্রতিটি গাছে থোকা থোকা সবুজ মাল্টা ধরে আছে। একটি গাছে বছরে অন্তত দু’শো কেজি ফলন পাচ্ছে চাষিরা।

একই উপজেলার হালদা ভ্যালী চা বাগানের পরিত্যাক্ত জমিতে গড়ে তোলা হয়েছে এই ড্রাগন বাগানটি। ২০১৬ সালে থাইল্যান্ড থেকে আনা মাত্র চার শো গাছ দিয়ে বাগান শুরু হলেও এখন প্রায় ৩২ হাজার গাছ থেকে ফলন আসতে শুরু করেছে। যা থেকে বছরে অন্তত ৫০ লাখ টাকা আয় করছেন বাগানটির উদ্যোক্তরা। শুধু এই দুটি বাগানই নয়। পাহাড়ি এই উপজেলাটির বিভিন্ন এলাকায় অন্তত ৫ শো বিদেশী ফলের বাগান গড়ে উঠেছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা কৃষিবিদ গিয়াস উদ্দিন বলেন, অন্যান্য চাষের চেয়েও মাল্টা ড্রাগনের মতো বিদেশী ফলের চাষ অনেক সহজ। বিষয়টি সারা দেশে ছড়িয়ে দিতে পারলে অল্প দিনেই পুষ্টিতে স্বনির্ভরতা অর্জন সম্ভব হবে।

এছাড়া জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে প্রচলিত চাষাবাদে অনেক সময় ফলন বিপর্যয় ঘটছে বাংলাদেশে। এই বাস্তবতায় বিদেশী ফল চাষে এমন সফলতা কৃষককে মাঠে ধরে রাখতে ইতিবাচক ভুমিকা রাখবে বলে মনে করেন এই কৃষিবিদ।

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button
Close