দেশবাংলা

নওগাঁয় ব্যাংকের ১১৫ কোটি টাকা নিয়ে দম্পতি উধাও

নওগাঁয় সাউথইস্ট ব্যাংক শাখার ১১৫ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে আগরওয়ালা দম্পতি ভারতে পালিয়ে গেছে বলে গুঞ্জন উঠেছে। ঘটনায় সাউথইস্ট ব্যাংক লিমিটেড নওগাঁ শাখা প্রধান কামারুজ্জামান নওগাঁ সদর থানায় গত ৯ অক্টোবর একটি অভিযোগ করেছেন।

গত ১৫ অক্টোবর প্রতিষ্ঠানটিতে সাউথইস্ট ব্যাংক লিমিটেড নওগাঁ শাখার পক্ষ থেকে সম্পত্তির তফশিল উল্লেখ করে নোটিশ ঝোলানো হয়েছে। ঘটনার পর থেকে অন্য ব্যাংকগুলো নড়েচড়ে বসেছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ও নওগাঁ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কোন বক্তব্য দিতে চান না।

সচেতনরা মনে করছেন, ব্যাংক কর্তৃপক্ষের যোগসাজসে প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি টাকা ঋণ দেয়া হয়েছে।জড়িতদের আইনের আওতায় নিয়ে আসার দাবী জানিয়েছেন তারা।

নওগাঁ শহরের বাসিন্দা গোপাল আগরওয়ালা এলাকার পুরনো ব্যবসায়ী। অটো রাইসমিল ছাড়াও ফিড প্রসেসিংয়ের ব্যবসা আছে তার পরিবারের। তিনি শহরের বাসিন্দা হলেও জেএন ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড নামে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠা রয়েছে বগুড়া জেলার দুপচাঁচিয়া উপজেলা জগন্নাথ নগর এলাকায়।

জেএন ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের অধীনে অটো রাইসমিল রয়েছে, যার ব্যবস্থাপনা পরিচালক তিনি নিজে। আর মেসার্স শুভ ফিড প্রসেসিংয়ের স্বত্বাধিকারী তার স্ত্রী দীপা আগরওয়ালা।

ব্যবসার প্রয়োজনে নওগাঁয় সাউথইস্ট ব্যাংক শাখার অনুকুলে ২০১৬ সালে ঋণের আবেদন করলে ঋণ সুবিধা মঞ্জুর ও ছাড় করে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ।

চলতি বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত গোপাল আগরওয়ালার জেএন ইন্ডাস্ট্রিজের কাছে ব্যাংকটির ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৮৪ কোটি ১৩ লাখ ৮৮ হাজার টাকা এবং তার স্ত্রী দীপা আগরওয়ালার শুভ ফিড প্রসেসিংয়ের কাছে ঋণ স্থিতির পরিমাণ ৩০ কোটি ৮০ লাখ ১৪ হাজার টাকা। সব মিলিয়ে ব্যাংকটির নওগাঁ শাখায় ১১৪ কোটি ৯৪ লাখ ২ হাজার টাকা ঋণ রয়েছে এ ব্যবসায়ী দম্পতির।

গ্রাহক ঋণ পরিশোধে গড়িমসি করলেও তাদের ব্যবসায়িক দিক বিবেচনা করে আইনি পদক্ষেপে যায়নি ব্যাংক। বরং ঋণ পরিশোধের জন্য তাদের সময় দেয়া হয়েছে। তারপরও ঋণ পরিশোধ না করে দেশ ছেড়েছেন এ ব্যবসায়ী দম্পতি।

বিষয়টি উল্লেখ করে ব্যাংকের নওগাঁ শাখার প্রধান  কামারুজ্জামান বাদী হয়ে একটি জিডি করেছেন। গত ১৫ অক্টোবর প্রতিষ্ঠানটিতে ব্যাংকের পক্ষ থেকে সম্পত্তির তফশিল উল্লেখ করে নোটিশ ঝোলানো হয়েছে। সেই সাথে প্রতিষ্ঠানটিতে দেখভালের জন্য ১৪ জন নিরাপত্তাকর্মী রাখা হয়েছে।

গত দুইমাস থেকে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম সম্পূর্ন বন্ধ করে শ্রমিক ছাটাই করা হয়েছে। গত দেড়মাস থেকে শ্রমিকরা কোনো বেতন না পেয়ে হতাশ হয়ে পড়েছে।

গত দুইমাস থেকে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম বন্ধ থাকায় সরঞ্জামগুলোতে মরিচা ধরা শুরু করেছে। স্থানীয়রা বলছেন- বর্তমানে ৩ লাখ টাকা শতাংশ হিসেবে ওই জমির মূল্য প্রায় ১৪ কোটি টাকা। এছাড়া স্থাপনা ও সরঞ্জাম মূল্য প্রায় ৪০ কোটি টাকা।

মোট দাম প্রায় ৫৪ কোটি টাকা। বর্তমানে জমিসহ ওই ইন্ডাষ্ট্রিজ টি বিক্রি করা হলে ৩০-৩৫ কোটি টাকা মূল্য হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ব্যাংক কর্তৃপক্ষের যোগসাজসে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি টাকা ঋণ দেয়ায় ওই দম্পতি সুযোগ পেয়ে দেশ ছেড়েছেন বলে মনে করছেন নওগাঁবাসী। এ অনিয়মের সাথে জড়িতেদের দ্রুত বিচারের আওতায় নিয়ে আসার দাবী জানিয়েছেন সচেতনরা।

অনিয়মের মাধ্যমে আর যেন কেউ টাকা আত্মসাতের সুযোগ না পায় এমন দাবী সচেতনদের।

আশরাফুল নয়ন, নওগাঁ প্রতিনিধি

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button
Close