দেশবাংলা

নকলায় পুলিশ আতঙ্কে একটি গ্রাম পুরুষ শূন্য

শেরপুরের নকলায় একটি ধর্ষণ মামলার আসামীকে পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেয়ার অভিযোগে, ৮০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে পুলিশ। এ ঘটনার পর থেকে পুলিশ আতঙ্কে উপজেলার লাভা গ্রামটি এখন পুরুষ শূন্য।

স্থানীয়রা বলছেন, আসামী অসুস্থ হয়ে পড়লে ছেড়ে দেয় পুলিশ। আর পুলিশ বলছে, তাদের আক্রমণ করে আসামীকে ছিনিয়ে নেয় গ্রামবাসী।

নকলা উপজেলার লাভা গ্রামে প্রেমঘটিত বিষয়ে শালিস করতে গেলে, ওই ঘটনায় একজন শালিসদার শ্যামল, ও কথিত প্রেমিক রিজনসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা করে পার্শ্ববর্তী গৌরদার এলাকার এক যুবতী।

এ ঘটনায় অভিযান চালিয়ে মামলার ২নম্বর আসামী শ্যামলকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এরপরই সে অজ্ঞান হয়ে পড়লে স্থানীয়রা তাকে পানি ঢেলে সুস্থ করার সময়, গ্রামবাসী এসে আসামীকে জোরপূর্বক ছিনিয়ে নিয়ে যায়। এসময় কর্তব্যরত ৪ পুলিশ আহত হয়।

পরে পুলিশ এ ঘটনায় গ্রামবাসীর বিরুদ্ধে আসামী ছিনতাইয়ের অভিযোগ করে ৩৫ জনের নাম উল্লেখ করে আরো ৪৫জন অজ্ঞাতসহ ৮০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করলে পুলিশ ৪মহিলাসহ ৮জনকে গ্রেফতার করে।

এ ঘটনার পর শ্যামলের পরিবার ও গ্রামবাসীর পক্ষ থেকে সোমবার (২২ অক্টোবর) শেরপুর জেলা প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে শ্যামলের ভাই মোকছেদুল ইসলাম অভিযোগ করেন, তার ভাই শ্যামলকে গ্রেফতার করে এবং নির্যাতন করে।

পরে টাকা দেয়ার কথা বললে, পুলিশ তাকে ছেড়ে দেয়। এরপর মাত্র দেড়বছরের শিশু সন্তানসহ শ্যামলের স্ত্রী সুবর্নাকেও গ্রেফতার করে নিয়ে যায়। যা অমানবিক। বর্তমানে সুবর্ণা শিশু সন্তানসহ জেলা কারাগারে আটক আছেন।

তবে গ্রামবাসীর অভিযোগ মিথ্যা দাবী করে পুলিশ বলছে যারা নির্দোষ তাদেরকে কোন পুলিশী হয়রানী করা হচ্ছে না এবং দোষীদেরও ছাড় দেয়া হবে না।

দ্রুত সময়ের মধ্যে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় আনা হবে এমনটাই মনে করছেন স্থানীয়রা।

শাকিল মুরাদ, শেরপুর প্রতিনিধি

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button
Close