শেরপুরে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত স্থানগুলো সংরক্ষণে উদ্যোগ নেই

১৯৭১ সালে পাকবাহিনীর বর্বর নির্যাতনে শেরপুরের অসংখ্য নারী-পুরুষ দিয়েছে তাজা প্রাণ। গণহত্যার পর কোথাও মাটিচাপা ও কোথাও লাশ ভাসিয়ে দেয়া হয়েছে নদীতে। কিন্তু স্বাধীনতার ৪৮ বছর পরও সংরক্ষণ করা হয়নি স্মৃতিবিজড়িত স্থানগুলো।
১৯৭১ সালে পাকবাহিনীরা হামলা চালিয়ে শেরপুরের অসংখ্য নিরীহ নারী-পুরুষ ও শিশুকে গুলি করে হত্যা করে। জেলায় এ হত্যাকান্ড চললেও নালিতাবাড়ী উপজেলার সোহাগপুরে ১৮৭ জন, তন্তর গ্রামে ৭জন, নাকুগাও গ্রামে মুক্তিকামী ও ভারতীয় নাগরিকসহ ২ শতাধিক, সদর উপজেলার সূর্যদি গ্রামে ৬২ জন, ঝাউগড়া গ্রামে ৯ জন
ঝিনাইগাতী উপজেলার জগৎপুর গ্রামের হিন্দু সম্প্রদায়ের ৪২জনসহ ৫৮ জন, কাটাখালি ব্রিজ ও রাঙ্গামাটিয়া খাঠুয়াপাড়া গ্রামে মুক্তিযোদ্ধাসহ ১২জনকে নির্মম ভাবে হত্যা করা হয়।
কিন্তু স্বাধীনতার ৪৮ বছর অতিবাহিত হলেও এখনো অনেক জায়গায় চিহ্নিত করা হয়নি মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত স্থানগুলো। আবার জেলায় যে কটি স্মৃতিস্তম্ভ রয়েছে সেগুলোও অযত্ন আর অবহেলায় পড়ে আছে।
স্থানীয়দের দাবি, মুক্তিযোদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত স্থানগুলো সংরক্ষণ ও জেলার স্মৃতিস্তম্ভগুলো শুধু কোন দিবসে নয়, সব সময় পরিস্কার পরিচ্ছন্ন করা হোক।
এদিকে, মহান মুক্তিযোদ্ধের স্মৃতিচিহৃগুলো সংরক্ষণের দাবিতে সোচ্চার মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের সংগঠন। আর স্মৃতিবিজড়িত স্থানগুলো চিহ্নিত ও স্মৃতিস্তম্ভগুলো সংরক্ষণ এবং পরিস্কারের কথা জানালেন, নুরুল ইসলাম হিরো জেলা সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার।
তবে স্মৃতিস্তম্ভগুলো শুধু কোন দিবসে নয়, সব সময় পরিস্কার পরিচ্ছন্ন এবং শহীদদের স্মৃতি ধরে রাখতে খুব দ্রুত সময়ের মধ্যেই বদ্ধভুমি ও গণকবরগুলো চিহিৃত করা হবে এমনটাই প্রত্যাশা শেরপুরবাসীর।
শাকিল মুরাদ, শেরপুর প্রতিনিধি



