এ যেন আরেক কারওয়ান বাজার

কুয়েত সিটি থেকে ২৩ কিলোমিটার দূরত্বে সুলাইবিয়া কেন্দ্রীয় ফল ও সব্জির বাজার। এ বাজারে প্রবেশ করলেই মনে পড়ে যাবে ঢাকার কারওয়ান বাজারের কথা। ব্যস্ততায় ঠাসা। তবে বাজার অর্থে সেভাবে নেই কোনো হাঁকডাক। নেই কোনো হুড়োহুড়ি।
আর পণ্যে ভেজাল তা কখনো বোধহয় শেখেননি দেশটির জনগণ। ফরমালিন মেশানোর তো প্রশ্নই আসে না। কুয়েতের সবচেয়ে বড় ফল-সব্জির এ বাজারটিতে বাংলাদেশীদের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান বেশ চোখে পড়ার মতো।
কুয়েতের কেন্দ্রীয় ফল ও সবজির মার্কেট সুলাইবিয়া সেন্ট্রাল ভেজিটেবল অ্যান্ড ফ্রুট মার্কেট। বিশাল কনভেনশন সেন্টারের আদলে তৈরি এই মার্কেট ১৭টি জোনে বিভক্ত। প্রতিটি জোনে দোকান রয়েছে ৩০ থেকে ৩৫টি। সুশৃঙ্খল পরিবেশ সর্বত্র।
থরে থরে টাটকা ফল আর শাক সবজি সাজিয়ে রেখেছেন বিক্রেতারা। পরিপাটি আর নান্দনিক সৌন্দর্যের বুননে ঠাসা এই বাজার। নানা ফলের সমাহার সামনে নিয়ে বিক্রেতাদের ব্যস্ততার শেষ নেই। এ মার্কেটে ঘুরে ফিরেই চোখে পড়বে বাংলাদেশিদের।
বাজারে মিলবে বাংলাদেশে পরিচিত সব শাক-সবজি, ফলও। ভেতরে ঢুকলে তাই মনেই পড়বে দেশের আড়ৎগুলোর কথা। এই বাজারেরই এক এরাবিয়ান বিক্রেতা জানান, বাজারটিতে ব্যবসায়ীদের এক তৃতীয়াংশ হচ্ছেন বাংলাদেশী। তাদের বেশ প্রশংসাও করেন তিনি।
সুলাইবিয়ার এ বাজারটি খোলা থাকে ২৪ ঘণ্টা, তবে বেচা-কেনার নির্দিষ্ট সময় ভোর ছয়টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত। স্থানীয় নাগরিকদের সাথে বাংলাদেশীদের সুসম্পর্কের কথা জানান প্রবাসী বাংলাদেশী এ ব্যবসায়ী। তিনি আরও জানান, এখানে তিনি দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা করে আসছেন।
শীত মৌসুমে কুয়েতে উৎপাদিত সবজি দিয়ে দেশটির সবজি চাহিদা পূরণ হয়না, এজন্য প্রতিবেশী দেশ গুলো থেকে সবজি আমদানি করতে হয় বলে জানান, এ ব্যবসায়ী।
এ মার্কেটের বিভিন্ন সুযোগ সুবিধার কথাও জানান মোহাম্মদ হেবজু। এ মার্কেটে খুব সহজেই ব্যবসা করা যায়, বলেও জানান মোহাম্মদ হেবজু।
প্রবাসী বাংলাদেশী ব্যবসায়ীদের ভালো উপার্জনে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে এ বাজার। কুয়েত প্রবাসীদের কষ্টার্জিত অর্থ দেশে প্রেরণ করার মাধ্যমে, আগামীর বাংলাদেশ উন্নত ও সমৃদ্ধশালী হবে,এমনটাই প্রত্যাশা কুয়েত প্রবাসী বাংলাদেশীদের।
আ হ জুবেদ, কুয়েত প্রতিনিধি



