আন্তর্জাতিকইউরোপ

ক্রাইস্টচার্চে নিহতদের স্মরণ করল গোটা নিউজিল্যান্ড

সীমাহীন মুসলিম বিদ্বেষ ও অমূলক ইসলামভীতি থেকে গত বছরের এই দিনে নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের দু’টি মসজিদে নজিরবিহীন হামলা চালায় এক খ্রিস্টান জঙ্গি। নির্বিচারে গুলিবর্ষণ করে হত্যা করে ৫১ নিরীহ মুসল্লিকে। নামাজ, দোয়া অনুষ্ঠান ও নানা সামাজিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে স্বজন হারানোর শোক পালন করছেন, দেশটির নাগরিকরা।

২০১৯ সালের ১৫ মার্চ, শুক্রবার। অন্য সময়ের মত সেদিনও নামাজ পড়তে নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের দু’টি মসজিদ, আল-নূর এবং লিনউডে হাজির হন মুসল্লিরা। কিন্তু একটা দুপুর যে কতোটা ভয়ঙ্কর হতে পারে তা দেখলো গোটা বিশ্ব।

হঠাৎই মুসল্লিদের ওপর বর্বর সশস্ত্র হামলা চালায় এক উগ্র ডানপন্থী খৃস্টান। তার এলোপাতাড়ি হামলায় পাঁচ বাংলাদেশিসহ ৫১ জন মুসল্লি নিহত হন। আহত হন আরো প্রায় ৪৯ জন। কিউইর ডানাজুড়ে ছড়িয়ে পড়লো বিষাদের কালো থাবা। ব্রেন্টন ট্যারেন্ট নামের ওই সন্ত্রাসী ঝাঁপিয়ে পড়েন নিরীহ মুসল্লিদের ওপর।

ক্যালেন্ডারের পাতায় পার হয়ে গেলো একটি বছর। সেই বিভিষীকাময় দিনটিকে স্মরণ করে হামলা চালানো মসজিদের পাশে, হর্ণক্যাসেল ময়দানে বিশেষ দোয়া আয়োজনের উদ্যোগ নেয়, দেশটির সরকার। পরে, বিশ্বজুড়ে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণে বাতিল করা হয় এই সমাবেশ।

তবে, ছোট ছোট দলে ভাগ হয়ে মসজিদের সামনে নিহতদের স্মরণ করেন কিউইরা। অনেকেই সম্প্রীতির অংশ হিসেবে প্রদর্শন করেন দেশটির ঐতিহ্যবাহী হাক্কা-ড্যান্স।  ভূক্তভোগী পরিবারগুলোকে শান্তনা দিয়েছেন ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই।

এদিন আক্রান্ত মসজিদের কাছেই ছিলেন বাংলাদেশ দলের ক্রিকেটাররা। চলছিল বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড টেস্ট সিরিজ। অনুশীলন শেষে জুমা’র নামাজ আদায় করতেও গিয়েছিলেন, তামিম-মুশফিক-রিয়াদ-তাইজুলরা। ভাগ্যগুণে প্রাণ নিয়ে দেশে ফেরেন ক্রিকেটাররা।

চলতি বছরের ২ জুন আটক হত্যাকারী ব্রেন্টন ট্যারেন্টের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলার রায় ঘোষণার কথা রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button
Close