পড়তে-লিখতে না জেনেও ৭১ বছর বয়সে কুরআনের হাফেজ হলেন মিশরীয় দুই নারী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: পড়তে বা লিখতে পারেন না। তবে রেডিওতে কুরআন তিলাওয়াত শুনে এবং দীর্ঘদিনের অনুশীলনের মাধ্যমে পবিত্র কুরআনের ৩০ পারা মুখস্থ করেছেন মিশরের ৭১ বছর বয়সি সুকরা সেলিম। একইভাবে তার ঘনিষ্ঠ বান্ধবী ৭১ বছর বয়সি থানা জিদানও সম্পূর্ণ কুরআন হিফজ করেছেন। মেনুফিয়া প্রদেশের মিত শেহালা গ্রামের এই দুই নারীর কুরআন হিফজের দীর্ঘ যাত্রার গল্প দেশটির সংবাদমাধ্যমে উঠে এসেছে।
সুকরা সেলিম ৫০ বছর বয়সে কুরআন হিফজ শুরু করেন। শুরুতে প্রতিদিন মাত্র দুটি আয়াত মুখস্থ করতেন। পরে সারা দিন সেগুলো বারবার অনুশীলন করতেন। পড়তে-লিখতে না জানায় কুরআন শেখার ক্ষেত্রে রেডিওতে তিলাওয়াত শোনা এবং হিফজের আসরে অংশ নেওয়াই ছিল তার প্রধান মাধ্যম।
স্বামী মারা যাওয়ার সময় পর্যন্ত সুকরার ১৬ পারা কুরআন মুখস্থ হয়েছিল। স্বামীর মৃত্যুর পরও তিনি হিফজের অনুশীলন চালিয়ে যান এবং একপর্যায়ে পুরো কুরআন মুখস্থ করতে সক্ষম হন।
বর্তমানে সুকরা ও থানা একসঙ্গে প্রতিদিন পাঁচ পারা করে কুরআন পুনরাবৃত্তি করেন। এভাবে নিয়মিত অনুশীলনের মাধ্যমে তারা সপ্তাহে একবার সম্পূর্ণ কুরআন খতম করেন।
অন্যদিকে ছোটবেলা থেকেই কুরআন হিফজ করার আগ্রহ ছিল থানা জিদানের। তবে পারিবারিক দায়িত্ব ও সন্তানদের লালন-পালনের কারণে তখন তা সম্ভব হয়নি। সন্তানদের বড় করার পর তিনি হিফজে মনোযোগ দেন এবং ৬৫ বছর বয়সে পুরো কুরআন মুখস্থ সম্পন্ন করেন। এরপর থেকে তিনি সুকরার সঙ্গে নিয়মিত কুরআন পুনরাবৃত্তি করে আসছেন।
গত ৩০ আগস্ট ‘বিশ্ব কুরআন বর্ণনা দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে অংশ নেন থানা। ফজরের নামাজের পর তিনি মুখস্থ থেকে কুরআন তিলাওয়াত শুরু করেন। প্রায় ১৩ ঘণ্টা ধরে একটানা তিলাওয়াত করে তিনি সম্পূর্ণ কুরআন শেষ করেন।
একই অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে সুকরাও মুখস্থ থেকে কুরআন তিলাওয়াত করেন। আল-আজহারের তত্ত্বাবধানে তৃতীয়বারের মতো আয়োজিত এ কর্মসূচির এবারের প্রতিপাদ্য ছিল ‘পড়ো ও উন্নত হও’। মিশরের বিভিন্ন অঞ্চলে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে হাফেজদের মুখস্থ থেকে কুরআন তিলাওয়াতের সুযোগ দেওয়া হয়।
কুরআন হিফজ ও তিলাওয়াতের স্বীকৃতি হিসেবে পরবর্তীতে মেনুফিয়া প্রদেশের ধর্মবিষয়ক কর্তৃপক্ষ সুকরা ও থানাকে সম্মাননা দেয়। পাশাপাশি সৌদি আরবপ্রবাসী মিশরীয় ব্যবসায়ী মোহাম্মদ হাইসাম সুলতান তাদের দুজনকে ওমরাহ পালনের জন্য দুটি সফর উপহার দেওয়ার ঘোষণা দেন। তাদের ওমরাহ পালনে পাঠানোর প্রস্তুতির কথাও জানানো হয়েছে।
পড়তে-লিখতে না জেনেও শুধু শুনে শুনে কুরআন মুখস্থ করা সুকরা সেলিম এবং দীর্ঘ সাধনার পর একই বয়সে পুরো কুরআন হিফজ করে এক বৈঠকে তা তিলাওয়াত করা থানা জিদানের ঘটনা মিশরে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি করেছে।



