দেশবাংলা

হত্যা না আত্মহত্যা : বরগুনায় ওসির রুম থেকে ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

গত বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) বরগুনার আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) রুম থেকে হেফাজতে থাকা সন্দেহভাজন আসামি শানু হাওলাদারের (৫২) ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে ওই থানারই পুলিশ। উদ্ধার হওয়া ওই ব্যক্তির শরীরে নির্যাতনের স্পষ্ট চিহ্ন থাকলেও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল বাসারের (ওসি) দাবি, ‘কোনো নির্যাতন করা হয়নি। সে আত্মহত্যা করেছে।’

তবে ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, এটি আত্মহত্যা নয় বরং ওসির দাবি করা তিন লাখ টাকা দিতে না পারায় নির্যাতন করে তাকে মেরে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে পুলিশ।

জানা যায়, গত সোমবার (২৩ মার্চ) শানু হাওলাদার (৫২) নামের ওই ব্যক্তিকে সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে রাত ১১টার দিকে বরগুনার আমতলী উপজেলার গুলিশাখালীর নিজ বাড়ি থেকে ধরে আনে আমতলী থানার তদন্ত ইন্সপেক্টর (ওসি) মনোরঞ্জন মিস্ত্রির নেতৃত্বে থাকা একদল পুলিশ।

এরপর টানা তিন দিন পুলিশ হেফাজতে রাখলেও শানু হাওলাদারকে আদালতে সোপর্দ করেননি ইন্সপেক্টর মনোরঞ্জন। এমনকি থানায় নিয়ে আসার পর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেও যোগাযোগ করতে দেয়নি। শুধু তাই নয়, শানু হাওলাদারের অপরাধ কি সেটি জানতে স্থানীয় নির্বাচিত ইউনিয়ন চেয়ারম্যান থানায় গেলেও তাকেও শানুর সঙ্গে দেখা করতে দেয়নি পুলিশ।

এমনকি তার বিরুদ্ধে কি অপরাধ রয়েছে সে বিষয়টিও ‘জানা নেই’ পুলিশের। শানুর সঙ্গে দেখা না করে রাতে বাড়ি ফেরার পরদিন সকালে ঘুম থেকে উঠেই চেয়ারম্যান শুনতে পান শানু আত্মহত্যা করেছে। তবে চেয়ারম্যানের দাবি, ‘এটি কোনভাবেই আত্মহত্যা নয় বরং হত্যা করা হয়েছে তাকে।’

এদিকে, ঘটনাটি হত্যা না আত্মহত্যা তার কারণ খুঁজতে জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অপরাধ) মো. তোফায়েল আহম্মেদকে প্রধান করে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বরগুনা সদর) মো. মহব্বত আলী ও সহকারী পুলিশ সুপার (আমতলী-তালতলী সার্কেল) সৈয়দ রবিউল ইসলামকে নিয়ে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

তদন্ত কমিটিকে সুনির্দিষ্ট কোন সময়ে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে না বলা হলেও জরুরি ভিত্তিতে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মারুফ হোসেন।-সারাবাংলা

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button
Close