দেশবাংলা

নারায়ণগঞ্জে স্বাভাবিক মৃত্যু ভেবে দাফন করেন স্বজনরা

গত ৩০ মার্চ নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলায় ৫০ বছর বয়সী এক নারী শ্বাসকষ্ট ও জ্বরে আক্রান্ত হয়ে এক নারীর মৃত্যু হয়। স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে ভেবে নিজেরাই দাফন করেছিলেন দুই ছেলে এবং জামাতাসহ নিকটাত্মীয়রা।

পরে ওই নারীর নমুনা সংগ্রহ করে আইইডিসিআর এ পাঠানো হলে, বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) পরীক্ষার ফলাফলে দেখা যায়, ওই নারী করোনায় সংক্রমিত ছিলেন

বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর বৃহস্পতিবার রাতে জেলা সিভিল সার্জনের নেতৃত্বে ওই নারীর বাড়িসহ এলাকার একশ পরিবারকে লকডাউন করেছে উপজেলা প্রশাসন।

এবিষয়ে বন্দর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শুক্লা সরকার জানান, গত ২৯ মার্চ (রোববার) বন্দর উপজেলার সিটি কর্পোরেশনের ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের রসুলবাগ এলাকায় ৫০ বছর বয়সী এক নারী শ্বাসকষ্ট ও জ্বরে আক্রান্ত হলে স্বজনরা তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে সেখান থেকে তাকে রাজধানীর কুর্মিটোলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য পরামর্শ দেয়া হলে স্বজনরা তা না মেনে ওই দিনই বাড়িতে ফেরত নিয়ে যান।

পরদিন (৩০ মার্চ) ওই নারী আবার অসুস্থ হয়ে পড়লে রাজধানীর কুর্মিটোলা হাসপাতালে নেয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। পরে কুর্মিটোলা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ওই নারীর নমুনা সংগ্রহ করে আইইডিসিআর এ পাঠায়।

এর মধ্যে স্বজনরা লাশ নারায়ণগঞ্জের বন্দরের বাড়িতে নিয়ে আসেন। স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে ভেবে ওই নারীর দুই ছেলে এবং মেয়ের জামাতাসহ অন্যান্য নিকট আত্মীয়-স্বজন স্থানীয় কবরস্থানে লাশ দাফন করেন।

তবে স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলছেন, ওই নারী করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন বলে পরিবার ও এলাকাবাসী শুরু থেকে জানলেও বিষয়টি গোপন রেখে তড়িঘড়ি করে লাশ দাফন করে ফেলেছে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে আইইডিসিআর এর পরীক্ষায় ওই নারীর করোনা ভাইরাস পজিটিভ বলে শনাক্ত হলে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ ওই এলাকা লকডাউন করার সিদ্ধান্ত নেয়।

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button
Close