ঢালিউডবিনোদন

মানবেতর অবস্থায় প্রোডাকশন বয়রা

স্বল্প আয়ে জীবন চলা প্রোডাকশন বয়দের জীবন থামিয়ে দিয়েছে করোনাভাইরাস। প্রতিদিন শুটিংয়ের কাজ করে এই প্রযোজনা সহকারীরা আয় করতেন ৮শ টাকা। এ টাকা দিয়েই চলত তাঁদের সংসার।

একটি নাটকের শুটিং ইউনিটে ৩ থেকে ৪ জন প্রোডাকশন বয় থাকে। চলচ্চিত্র হলে টিম ভেদে সেই সংখ্যা গড়ায় ৭ থেকে ৮ জন পর্যন্ত। এসব প্রোডাকশন বয়দের কাজ শুরু হয় সকাল থেকে। সবার আগে তারা শুটিং স্পটে পৌঁছান।

ইউনিটে কোন তারকা পৌঁছলেই তাঁদের জিনিসপত্র, মেকআপ রুমে নিয়ে যাওয়া, ইউনিটের সবাইকে চা-নাস্তা খাওয়ানো, শুটিংয়ের জায়গা পরিষ্কার করা, শুটিংয়ের মালপত্র দেখে রাখার কাজটি তারা করেন।

টিমের কারও জুতা সেলাইয়ের প্রয়োজন হলেও সেগুলো তারাই করেন। তারা না থাকলে অনেক সময় শুটিং বন্ধ হওয়ারও উপক্রম হয়। শুটিংয়ের সব কাজে শেষে সবার পর গভীর রাতে ছুটি হয় তাদের।

এদিকে, শুটিং বন্ধ হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন চলচ্চিত্র এবং নাটকের প্রযোজনা সহকারীরা। দিন গুনছেন, কবে শুরু হবে শুটিং। পরিবার-পরিজন নিয়ে দুর্দিন যাচ্ছে তাদের। কেউ শুটিংয়ের জন্য ডাকলে জীবনের মায়া ত্যাগ করে কাজ করতে চান তারা।

ঢাকায় থাকলে নিজের খাবারের চিন্তা করতে হবে, তাই শুটিং বন্ধ হতেই গ্রামের বাড়ি নোয়াখালী চলে গেছেন প্রোডাকশন সহকারী একরাম হোসেন।

মুঠোফোনে তিনি জানালেন, ‘খুব কষ্টে আছি ভাইয়া। সারা বছর কাজ কম থাকে। মাসে ১০-১২ দিন শুটিং থাকে। এখন আমাদের কাজের মৌসুম। ঈদ পর্যন্ত আমাগো কাজ থাকবো। অহন একটু ভালো থাকুম আর অহনি কাজ নাই।

খায়া না-খায়া দিন যাচ্ছে। পরিবারে টাকা দিতে পারতেছি না। কাজ না করলে ক্যামনে বাঁচুম ভাই। আল্লাহর কাছে দোয়া করতেছি যেন করোনা কমে, তাড়াতাড়ি শুটিং শুরু হয়।’ -প্রথম আলো

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button
Close