বিশ্ববাংলা

গ্রীসে অভিবাসী আইনের কবলে প্রবাসী বাংলাদেশিরা

গ্রীসে প্রায় দেড়মাস ধরে চলমান লকডাউনে ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় ৩৫ হাজার প্রবাসী বাংলাদেশি। বিশেষ করে কঠিন অভিবাসী আইনের কবলে পড়ে অবৈধ প্রবাসীরাই বেশী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় কর্তৃক দূতাবাসকে দেয়া বিশ লাখ টাকার অনুদান ইতোমধ্যেই যাচাই বাছাইপূর্বক নিবন্ধন শেষে, ক্ষতিগ্রস্ত প্রবাসীদের মাঝে সুষ্ঠুভাবে বন্টন করা হয়েছে।

অসহায় প্রবাসীদের পাশে দাঁড়ানোয়, দূতাবাসের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন, দেশটিতে বসবাসরত বাংলাদেশ কমিউনিটির নেতৃবৃন্দ। করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে গ্রীসে প্রায় দেড়মাস ধরে চলছে লকডাউন। এরপরও অনেকেই সে আইন লঙ্ঘন করে বাইরে অবস্থান করায় জরিমানা দ্বিগুণ করেছে দেশটির সরকার।

দীর্ঘদিন বেকার হয়ে ঘরে বসে থাকার কারনে, অনেকেরই সঞ্চয় শেষ হয়ে এসেছে। অভাব অনটনে কষ্ট করছেন বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশী প্রবাসী। এদিকে, দ্বিতীয় দফায় চলতি মাসের ২৭ তারিখ পর্যন্ত লকডাউনের মেয়াদ বাড়ানোসহ,সকল আন্তর্জাতিক ফ্লাইট আগামী ১৫ মে পর্যন্ত বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে দেশটির সরকার। প্রবাসীদের দুর্দশা লাঘব করতে প্রবাসী কল্যান মন্ত্রণালয় এথেন্স দূতাবাসের কাছে, ২০ লক্ষ টাকার অনুদান পৌঁছে দিয়েছে।

যাচাই-বাছাই করে ডিজিটাল উপায়ে নিবন্ধনের মাধ্যমে, ইতোমধ্যেই ১০৮৫ জন দুর্দশাগ্রস্ত প্রবাসীর হাতে ত্রাণসামগ্রী পৌছে দিয়েছে দূতাবাস। এ ব্যাপারে রাষ্ট্রদূত বলেন, “তিনটি বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে অনুদান বিতরণ করা হয়েছে”  (রাষ্ট্রদূত, তিনটি বিষয়ের বিবরণ) রাষ্ট্রদূত আরো জানান, গত ৬ মার্চ থেকে এথেন্সের নয়টি বিতরণকেন্দ্রের মাধ্যমে ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম শুরু করা হয়।

এবং পরে তা বাড়িয়ে ১৬টি তে উন্নীত করা হয়েছে, যাতে এথেন্সের বাইরে অন্যান্য শহর এবং দীপাঞ্চলগুলোতেও এই খাদ্য সহায়তা পৌছে দেয়া যায়। এছাড়া ত্রাণসামগ্রীর সুষ্ঠু বন্টন নিশ্চিত করতে দূতাবাসের উদ্যোগে মনিটরিং সেল গঠন করে, বিতরণ পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে এবং ভোক্তার সাথে সরাসরি যোগাযোগ করে, প্রত্যেক ক্ষতিগ্রস্ত প্রবাসীর ত্রাণ প্রাপ্তি নিশ্চিত করা হয়েছে।

গ্রীসে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের দোকানগুলোর মধ্য থেকেই কিছু দোকানকে ত্রাণ বিতরণকেন্দ্র হিসেবে নির্বাচন করা হয়েছে। ত্রাণের পরিমাণ নিয়ে কেউ কেউ প্রশ্ন তুললেও সত্যিকারের অসহায় প্রবাসীদের জন্য এটা অনেকটাই সহায়ক হবে বলে মনে করেন বিতরণের দায়িত্ব পাওয়া ব্যাক্তিরা।

এদিকে, যাদের পাসপোর্ট নেই, তারা পাসপোর্টধারীদের মাধ্যমে নিবন্ধন করে সহায়তা নিতে পারবেন। বাংলাদেশ সরকার অসহায় প্রবাসীদের পাশে দাঁড়ানোয় সন্তোষ প্রকাশ করে, দেশটির বাংলাদেশ কমিউনিটির নেতৃবৃন্দ, গ্রীস দূতাবাস এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।

এদিকে, শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত গ্রীসে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মোট মারা গেছেন ১১০ জন, নতুন করে আরো ১৫ জন আক্রান্তসহ মোট আক্রান্তের সংখ্যা ২,২৩৫ জনে দাঁড়িয়েছে । ২৬৯ জন সুস্থ্ হয়ে হাসপাতাল থেকে বাসায় ফিরেছেন।

তবে, ইউরোপে সর্বাধিক করোনাভাইরাসে আক্রান্ত দেশগুলোর তালিকায় শেষের দিকে অবস্থান করছে গ্রীস । দেশটির সরকার ও বাংলাদেশ দূতাবাসের নানাধরণের সচেতনতামূলক উদ্যোগের ফলে, করোনা ভাইরাস রোধে বিশেষ ভূমিকা রাখছে বলে মনে করছেন, প্রবাসী বাংলাদেশিরা।

জাকির হোসাইন, গ্রিস প্রতিনিধি

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button
Close