অন্যান্যবাংলাদেশ

রানা প্লাজা ধসের সাত বছর: কতটা বদলেছে কর্মপরিবেশ

২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল সাভারের রানা প্লাজা ধসে পড়ে। ধসের আগে রানা প্লাজায় একটি ফাটল দেখা গিয়েছিল। মালিক সোহেল রানাকে সেটি দেখানোও হয়। কিন্তু একরকম জোর করেই কাজে ঢোকানো হয় শ্রমিকদের। চাকরি বাঁচাতে কাজে যোগ দিলেও তারা জানতো না এই প্রবেশের মূল্য দিতে হবে তাদের।

মুহূর্তে ধসে পড়ে পুরো ভবন, মাটির নিচে চাপা পড়ে হাজার হাজার শ্রমিক। এ দুর্ঘটনায় সরকারি হিসাব মতে, ১ হাজার ১১২ জন শ্রমিক নিহত এবং দুই হাজারেরও বেশি আহত হয়। প্রাণহানির সংখ্যায়, যা বিশ্বের ইতিহাসে তৃতীয় ভয়াবহ শিল্প দুর্ঘটনা।

৭ বছর পরে ২০২০ সালে বিশ্ব যখন করোনাভাইরাসের আক্রমণের শিকার, পুরো বিশ্ব যখন লকডাউনে ঘরবন্দি সময় কাটাচ্ছে তখন গার্মেন্ট ছুটি দিলে হাজার হাজার শ্রমিক গ্রামে ফিরে যান। মাত্র কয়দিন পরেই তাদের নিজ নিজ কাজে যোগ দেওয়ার জন্য লোক মারফত, টেলিফোনে খবর পাঠানো হয়। করোনার ভয় কাটিয়ে, গণপরিবহন বন্ধ থাকায় মাইলের পর মাইল হেঁটে কাজের জায়গায় এসে শ্রমিকরা শোনেন কারখানা ফের বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

শ্রমিক নেতারা বলছেন, মালিকরা শ্রমিককে তার অংশী মনে না করলে কখনও পরিবর্তন আসবে না। ন্যায্য মজুরি দূরে থাক, শ্রমিকদের যেকোনও বিপদে একরকম জোর করে ঠেলে দেওয়ার মতো ঘটনাও হরহামেশা দেখতে পাওয়া যায়। তারা বলছেন, মালিকের মুনাফার শিকার হচ্ছেন পোশাক শ্রমিকরা। রানা প্লাজা থেকে করোনা বিপর্যয় সবখানেই শ্রমিকদের প্রতি মালিকদের আচরণ জুলুমের।

এদিকে, রানাপ্লাজা দুর্ঘটনার পর কারখানার কর্মপরিবেশের উন্নয়ন হয়েছে। সুরক্ষিত হয়েছে শ্রমিক অধিকার। এমনটা দাবি করে শিল্প মালিকরা বলছেন, অ্যাকর্ড অ্যালায়েন্সের শর্ত পূরণ করা হলেও কথা রাখছেন না ক্রেতারা। বরং তাদের অনৈতিক ক্রয় কৌশলের কারণে বাজারে টিকে থাকতে হিমশিম খাচ্ছে বাংলাদেশ।

সেসময় কারখানার অবকাঠামোগত সুরক্ষা নিশ্চিত করতে কাজ করতে এসেছিল অ্যাকর্ড ও অ্যালায়েন্স। সাত বছর পরে করোনার আক্রমণে কারখানা বন্ধ হবে কিনা, হুট করে খুলবে কার সিদ্ধান্তে, পিপিই বানানোর নামে কারখানা খুলে রেখে শ্রমিকদেরকে কাজে আসতে বাধ্য করার মতো কাজগুলো সঠিক হচ্ছে কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। প্রশ্ন উঠেছে, আদতে গুনগত কোনও পরিবর্তন এই খাতে হয়েছে কিনা?

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button
Close