দেশবাংলা

সারাদেশে ক্রমেই বাড়ছে করোনায় আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা

করোনাভাইরাসের সংক্রমণে বিপর্যস্ত সারাবিশ্ব। এর কবল থেকে মুক্তি পায়নি বাংলাদেশও। দেশের বিভিন্ন জেলায় ক্রমেই বাড়ছে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা। সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে রক্ষা পাচ্ছেন না কেউই।

শনিবার সকালে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে করোনা সন্দেহে আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ফাতেমা নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শিশুটির করোনা পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে এবং পরিবারের অন্য সদস্যদের কোয়ারেন্টাইনে থাকার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

সিরাজগঞ্জের কাজিপুরে পিতা ও পুত্র শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। আক্রান্ত পিতা-পুত্রের বাড়ি উপজেলার মনসুর নগর ইউনিয়নের মাজনাবাড়ি গ্রামে। শুক্রবার রাতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাহিদ হাসান সিদ্দিকী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এ নিয়ে জেলায় আক্রান্তের সংখ্যা দাড়ালো চারে।

মানিকগঞ্জে আরও ৩ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলায় ৩০ বছরের এক যুবক করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। তাকে নিজ বাড়িতেই আইসোলেশনে রেখেছে উপজেলা প্রশাসন। সে মাছ ব্যবসায়ীদের বরফ সরবরাহ করার সময় সংস্পর্শে আক্রান্ত হতে পারে বলে জানিয়েছে্‌ সাটুরিয়া উপজেলার স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. মামুন উর রশিদ।

বরিশালে গত ২৪ ঘন্টায় আরও ২ জনের শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত করা হয়েছে। এদের মধ্যে একজন বরিশাল মহানগরীর বাংলাবাজার এর বাসিন্দা এবং অন্যজন হলেন বাকেরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এর ডাক্তার, তবে বর্তমানে তিনি বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেলে কলেজ হাসপাতালে কর্মরত আছেন। এই নিয়ে জেলায় করোনা আক্রান্তের  সংখ্যা দাড়িয়েছে ৩৬ জনে।

এদিকে, মুন্সীগঞ্জে নতুন আক্রান্ত ১ জনসহ জেলায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৮ জনে।  গতকাল সিভিল সার্জন ডা: আবুল কালাম আজাদ এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, গত ২১ এপ্রিলে ৩৩ জনের পাঠানো নমুনার মধ্যে ৩০ জনের রিপোর্ট পাওয়া গেছে। এদের মধ্যে ২৯ জনের রিপোর্ট নেগেটিভ পাওয়া গেছে। তিনি মুন্সীগঞ্জ জেলা ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপ-পরিচালক। বাকি ৩ জনের রিপোর্ট এখনো পাওয়া যায়নি।

হবিগঞ্জে নতুন করে চা শ্রমিক এবং এক চিকিসৎকসহ আরো ৫ জনের করোনা পজিটিভ শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে জেলায় করোনা রোগী আক্রান্তের সংখ্যা দাড়ালো ২৬ জনে। চুনা্রুঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক আক্রান্ত হওয়ায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি লকডাউন করা হয়। সকল ডাক্তার ও স্টাফদের প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে।

চাঁদপুর সদর উপজেলার রামপুর এলাকায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া ফয়সালের শ্বশুরের পর, এবার তার শ্যালিকারও করোনা পজিটিভ শনাক্ত হয়েছে। ওই পরিবারের মোট ৯ সদস্যের মধ্যে মৃত ফয়সালসহ ৩ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে।

এ নিয়ে চাঁদপুর সিভিল সার্জন অফিসের হিসেবে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়ালো ১৩। এর মধ্য ১ জন মৃত ও ১ জন করোনামুক্ত হয়েছেন। বাকী ১১ জন বর্তমানে চিকিৎসাধীন।

বাংলা টিভি/রাসেল

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button
Close