অন্যান্যবাংলাদেশ

করোনা প্রভাবে দেশে ২ কোটি মানুষ নতুন করে দরিদ্র হতে পারে

করোনার মহামারীতে দক্ষিণ এশিয়াসহ বিশ্বব্যাপী নতুন করে কতজন গরিব হবে-এর একটি হিসাব দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। বৃহস্পতিবার ‘ইস্টিমেটস অব দি ইমপেক্ট অব কোভিড-১৯ অন গ্লোবাল প্রভার্টি’ শীর্ষক প্রতিবেদনে নতুন ফমুলা ব্যবহার করে এ হিসাব বের করা হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশে মানুষের আয়ে বা ক্রয়ক্ষমতার ২০ শতাংশে করোনা আঘাত করলে নতুন করে দুই কোটি মানুষ হতদরিদ্র ও দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে আসবে। আর আঘাতের মাত্রা যদি ৫ শতাংশও হয়, সে ক্ষেত্রে ৪০ লাখ মানুষ তাদের আগের অবস্থান থেকে ছিটকে পড়তে পারে।

বিশ্বব্যাংকের ওই প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, হতদরিদ্র ও দরিদ্রের হার সবচেয়ে বেশি হবে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়া ও লাতিন আমেরিকায়। তবে করোনাভাইরাস প্রত্যেক দেশে ২০ শতাংশ আয়-রোজগার ও ক্রয়ক্ষমতায় আঘাত হানলে বিশ্বব্যাপী ৪২-৫৮ কোটি লোক দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে আসবে। অর্থাৎ নতুন করে আরও ৯৬ লাখ মানুষ হতদরিদ্রের তালিকায় যুক্ত হবে।

সূত্র আরও জানায়, বাংলাদেশে ১ দশমিক ৯০ ডলারের ওপর বা ৩ দশমিক ৮ ডলারের নিচে দৈনিক আয় করছে এমন মানুষের সংখ্যা ৮ কোটি ৮০ লাখ (৫৫ শতাংশ)। বিশ্বব্যাংকের হিসাবে বলা হয়েছে, ২০ শতাংশ আয়ে আঘাত করলে এই হার ৫৫ থেকে বেড়ে ৬২ শতাংশে উঠবে। অর্থাৎ ৭ শতাংশ বাড়বে।

 নতুন করে দরিদ্র হবে আরও ১ কোটি ১২ লাখ লোক। ফলে করোনার প্রতিঘাতে নতুন করে মোট ২ কোটি ৮ লাখ মানুষ দরিদ্র ও হতদরিদ্রের তালিকায় নাম লেখাবে। বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যদি ২০ শতাংশ না হয়ে মাত্র ৫ শতাংশও আঘাত করে ততে হতদরিদ্র (১.৯০ ডলার) ১ শতাংশ এবং দরিদ্র (৩.২০ ডলার) ১ দশমিক ৫২ শতাংশ বাড়বে। ওই হিসাবে বাংলাদেশে হতদরিদ্র ও দরিদ্র মানুষের সংখ্যা নতুন করে ৪০ লাখ হবে।

এর মধ্যে ১৬ লাখ হতদরিদ্র হবে এবং দরিদ্র বনে যাবে ২৪ লাখ মানুষ। সংশ্লিষ্টদের মতে, বাংলাদেশের অবস্থা আরও খারাপ হবে। পরিসংখ্যান ব্যুরোর হিসাবে পৌনে দুই কোটি মানুষ আছে দৈনিক মজুরি ভিত্তিতে কাজ করছে। এসব মানুষ কাজ হারিয়ে তাদের ক্রয়ক্ষমতা হারিয়েছে।– যুগান্তর

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button
Close