দেশবাংলা

মা ও তিন সন্তান হত্যায় বাবা-ছেলেসহ অংশ নেয় ৬ জন

গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলায় জৈনাবাজার আবদার এলাকায় মোবাইল চুরি করতে গিয়ে চিনে ফেলায় ঘরের ভেতরে মা ও তিন সন্তানকে গলাকেটে হত্যা ঘটনার ৬ দিন পর বুধবার এই ঘটনার মূল রহস্য উদ্ঘাটন করতে সক্ষম হয়েছে র‌্যাব-১। নিহত হওয়া মা ও তার তিন সন্তানকে একই ঘরে ধর্ষণ ও হত্যা মিশনে অংশ নিয়েছিল বাবা ছেলেসহ ৬ জন।

এর আগে বাবা ও অন্য ৪ সহযোগিকে রক্ষার জন্য সমস্ত দায় নিজের কাঁধে নেয়  প্রথমে গ্রেফতার পারভেজ। আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতেও বাবা কাজীম উদ্দিনসহ অন্য ৪ সহযোগীর নাম গোপন রাখে পারভেজ। কিন্তু একাই একটি ঘরে চারজনকে এক সঙ্গে হত্যার মিশন চলানোর বাস্তবতা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে নানা প্রশ্নের জন্ম দেয়।

র‌্যাব-১ এর সদস্যরা শ্রীপুরের জৈনা বাজার এলাকায় দোতলা বাড়ির দ্বিতীয় তলায় মা ও তার তিন সন্তান হত্যার রহস্য উদ্ঘাটনে মাঠে নামে। পারভেজের সঙ্গে ধর্ষণ ও হত্যা মিশনে অংশ নেওয়া তার বাবা কাজীম উদ্দিনসহ ৫ জনকে গ্রেফতার করে। এ সময় তাদের কাছ থেকে লুটে নেওয়া নগদ ৩০ হাজার টাকা, ১টি হলুদ গেঞ্জি, ১টি জিন্স প্যান্ট, ৩টি লুঙ্গি এবং ১টি আংটি উদ্ধার করা হয় বলে জানান তিনি।

 ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব-১ এর লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইং পরিচালক লে. কর্নেল সারওয়ার বিন কাশেম জানান, এ ঘটনার সাথে জড়িত জৈনা বাজার এলাকার রিকশাচালক কাজীম উদ্দিন ( ৫০), বশির ( ২৬), আবু হানিফ ( ৩২), হেলাল উদ্দিন ( ৩০) ও এলাহী মিয়াকে ( ৩৫) গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকারও করেছে।

র‌্যাব-১ এর গাজীপুর ক্যাম্পের ইনচার্জ আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, মালয়েশিয়া প্রবাসী রেজোয়ান হোসেন কাজলের স্ত্রী স্মৃতি ফাতেমা মাঝে মধ্যেই কাজীম উদ্দিন ও বশিরের রিকশায় যাতায়াত করতেন। বেশির ভাগ সময়ই ওই দুই রিকশা চালককে ন্যায্য ভাড়ার চেয়ে বেশি টাকা দিতেন স্মৃতি ফাতেমা। এ থেকেই মূলত কাজীম উদ্দিনের ধারণা হয় স্মৃতি ফাতেমা অনেক টাকার মালিক।

কাজীম উদ্দিনের কাছে খবর আসে মালয়েশিয়া থেকে কাজল ২০-২২ লাখ টাকা পাঠিয়েছেন স্মৃতি ফাতেমার কাছে । ওই টাকা জৈনা বাজারের দোতলা বাড়িতেই আছে। এ ধারণা থেকে টাকা লুট করার ফন্দি আঁটে কাজীম উদ্দিন ও আবু হানিফ। এতে যুক্ত করা হয় তার ছেলে পারভেজ ও অন্য চারজনকে

গ্রেফতার অন্যরা র‌্যাবকে জানায়, নেশা ও জুয়ার টাকার জোগান দিতে তারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে। পরিকল্পনা মতো চলতি মাসের ২৩ এপ্রিল রাতে দোতলা ওই বাড়ির পেছনে জড়ো হয় তারা। প্রথমে পারভেজ ভেন্টিলেটর দিয়ে বাড়ির ভেতরে ঢোকে। এছাড়া হানিফ মাদারগাছ এবং পাইপ বেয়ে ছাদে উঠে সিঁড়ির ঢাকনা খুলে বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করে। তারপর অন্যদের প্রবেশের জন্য বাড়ির পেছনের ছোট গেট খুলে দেওয়া হয়। কাজিম, হেলাল, বশির ও এলাহি তখন ভেতরে প্রবেশ করে।

র‌্যাব জানায়, কাজীম এবং হেলালসহ তিনজন প্রথমে ফাতেমার ঘরে ঢোকে এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে ফাতেমাকে মেরে ফেলার ভয় দেখিয়ে বিদেশ থেকে পাঠানো টাকা দিতে বলে। ফাতেমা এত টাকা নেই বলে জানায়। পরে ফাতেমা তার রুমের স্টিলের শোকেজের ওপর রাখা টেলিভিশনের নিচে চাপা দেওয়া ৩০ হাজার টাকা বের করে দেয়। টাকা নিয়ে তারা ফাতেমার স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নেয় এবং পালাক্রমে ধর্ষণ করে।

অন্য রুমেও লুটপাট চলতে থাকে। সর্বশেষে প্রতিবন্ধী শিশু ফাদিলকে হত্যা করা নিয়ে আসামীদের মধ্যেই দ্বিধা ও সংশয় তৈরি হয়। কিন্তু কোনো প্রকার স্বাক্ষী যেন না থাকে সে জন্য প্রতিবন্ধী শিশু ফাদিলকেও হত্যা করা হয়। লুটে নেওয়া মালামাল ও টাকা কাজীম নিয়ে নেয় এবং সুবিধাজনক সময়ে বণ্টন করবে বলে অন্যদের আশ্বাস দেয়।–সমকাল

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button
Close