দেশবাংলা

ধর্ষণ করে ভিডিও ধারণ করা সেই স্বামী-স্ত্রী আটক

সিলেটের জৈন্তাপুরে ইফতারের পর চায়ের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীকে নেশার ওষুধ মিশিয়ে অজ্ঞান করে নিজের স্বামী কয়েসকে দিয়ে ধর্ষণ করায়। আর নিজে ওই ধর্ষণের চিত্র মোবাইল ফোনে রেকর্ড করে রাখে খালা সুমি বেগম।

ঘটনার পর থানায় মামলা করা হলে বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যায় সুমি ও তার স্বামী। ৬ দিন পর প্রযুক্তির সহযোগিতায় র‌্যাব সদস্যরা সুমি ও তার স্বামীকে সিলেট থেকে গ্রেপ্তার করেছে। পরে জৈন্তাপুর থানায় তাদের হস্তান্তর করা হয়।

জৈন্তাপুর মডেল থানার ওসি শ্যামল বণিক জানিয়েছেন- আসামিরা ধর্ষণ ও ভিডিও ধারণের কথা স্বীকার করেছে। তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ জানায়, গত ২ মে সুমি বেগম ওই ছাত্রীকে ইফতারির দাওয়াত দেয় কিন্তু সে যেতে রাজি ছিলেন না। সুমি বেগম ছাত্রীর পিতা-মাতাকে বলে তাকে ইফতারের কিছু আগে বাড়ি নিয়ে যায়। ইফতার শেষে কিছু সময় বিশ্রাম করার পরে রাত অনুমান ৮টায় সুমি বেগম কৌশলে চায়ের সাথে নেশা জাতীয় কিছু মিশিয়ে খেতে দেয়।

চা খাওয়ার পরে অচেতন হয়ে পড়লে আসামি সুমি বেগমের সহায়তায় তার স্বামী কয়েছ আহমদ ধর্ষণ করে এবং উলঙ্গ অবস্থায় মোবাইলে ভিডিও ধারণ করে। ঘণ্টাখানেক পর ওই ছাত্রীর চেতনা ফিরে এলে আসামি কয়েস আহমদকে পাশে দেখতে পায় ওই ছাত্রী।

এ সময় সে চিৎকার করলে আসামি কয়েস আহমদ ভিকটিমের মুখ চেপে ধরে রাখে। পরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে মুক্ত হয়ে তার পিতা মাতাকে খবর দেয়। এ ঘটনার পর ওই ছাত্রীকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওসিসিতে ভর্তি করা হয়। এবং জৈন্তাপুর থানায় এজাহার দায়ের করা হয়।

পরে পুলিশ ঘটনার সত্যতা পেয়ে মামলা রেকর্ড করলে সুমি ও কয়েস বাড়ি ছেড়ে পালায়। মামলা রেকর্ডের পর আসামিদের ধরতে জৈন্তাপুর মডেল থানা পুলিশ বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করে। কিন্তু তাদের খোজ পায়নি। তাদের ধরতে অভিযানে শুরু করে র‌্যাবও।

গতকাল র‌্যাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়- শুক্রবার দেড়টায় সিলেট থেকে নারীলোভী লম্পট কমলাবাড়ী মোকামটিলা গ্রামের রেনু মিয়ার ছেলে কয়েস আহমদ ও তার স্ত্রী সুমি বেগমকে আটক করা হয়।

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button