আইন-বিচারবাংলাদেশ

দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে ত্রাণ চুরিতে জড়িতদের বিচারের দাবি

করোনার দুর্যোগে, অভাবী মানুষের জন্য বরাদ্দ ত্রাণসামগ্রী আত্মসাতের ঘটনা কমে এলেও, থেমে নেই। সরকারের কঠোর হুঁশিয়ারির পরও থামছে না ১০ টাকা কেজির চাল আত্মসাতের ঘটনা। বিভিন্ন অপরাধে এ যাবৎ অন্তত ৫০ জন জনপ্রতিনিধিকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়।

এ অবস্থায়, দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল গঠন করে ত্রাণ চুরিতে জড়িতদের বিচারের দাবি জানিয়েছেন, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার ইমাম হাসান।

দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণের প্রেক্ষাপটে প্রায় দু’মাস ধরে ঘরবন্দী থাকায় কর্মহীন হয়ে পড়েছে অনেক স্বল্প আয়ের মানুষ। অসহায় এবং দৈনিক মজুরি ভিত্তিতে কাজ করা মানুষগুলো নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে সরকারের বিভিন্ন সাহায্য-সহযোগিতার ওপর। চলমান সঙ্কটে এই অসহায় মানুষের দুর্দশা লাঘবে নগদ অর্থ ও খাদ্য সহায়তা প্রদান করছে সরকার।

কিন্তু দুর্যোগের সময়েও সরকারের বরাদ্দ করা দুস্থ মানুষের সেসব ত্রাণসামগ্রী চুরির মত ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটছে, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের দ্বারাই। যা নিয়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে সামাজিক মাধ্যমেও। সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে বারবার হুঁশিয়ারির পরও থামেনি এ ঘটনা।

দেশের বিভিন্ন স্থানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর অভিযানে হাতেনাতে ধরা হয় ত্রাণ আত্মসাৎকারীদের। এর সঙ্গে জড়িত সন্দেহে জনপ্রতিনিধি এবং ডিলারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থাও নেয় সরকার। এ পর্যন্ত পাওয়া তথ্যে, ২৫ জেলায় প্রায় ৩৪১ মেট্রিক টন চাল চুরির অভিযোগ রয়েছে। এসব আত্মসাতে জড়িত থাকায় ১০২ জনকে আটক করা হয়েছে। মামলা হয়েছে ৯১টি।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার ইমাম হাসান বলেন, দুস্থ মানুষদের ত্রাণের চাল চুরির এসব ঘটনায় দায়ীদের দ্রুত শাস্তি নিশ্চিত না করলে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে। এ বিষয়ে গেল মাসে সরকারের সংশ্লিষ্ট ৬ মন্ত্রণালয়কে একটি লিগ্যাল নোটিশও দিয়েছেন তিনি।

তবে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো সাড়া না পাওয়ায় শিগগিরই হাইকোর্টে রিট দায়েরের কথাও জানালেন এই আইনজীবী।

আসাদ রিয়েল, বাংলা টিভি

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button
Close