বয়স্ক সাক্ষরতায় এগিয়েছে দেশ

গত এক দশকে ভেতরে ভেতরে অনেক বদলে গেছে দেশ। লাখ লাখ মানুষ এসেছেন সাক্ষরতার আলোয়। ১০ বছরে বাংলাদেশে সাক্ষরতার হার বেড়েছে রেকর্ড পরিমাণ। ইউনেস্কো ইনস্টিটিউট ফর স্ট্যাটিসটিক্স-ইউআইএস এর সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেটি বাংলাদেশের প্রতিবেশি অনেক দেশের চেয়ে বেশি। আর নীরক্ষরতা দূরীকরণে বড় ভূমিকা রাখছে, সরকারের উপনুষ্ঠানিক শিক্ষা কার্যক্রমগুলো।
বাংলাদেশের মহান স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বুঝতে পেরেছিলেন সদ্য স্বাধীন দেশে মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তি দিতে হলে, সবার আগে জাতিকে শিক্ষিত করে গড়ে তুলতে হবে। এজন্য তিনি নিরক্ষরতা দূরীকরণের জন্য যুগপত্ভাবে নানামুখী উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন। তিনি বিশ্বাস করতেন, গণমুখী শিক্ষা ছাড়া অর্থনৈতিক সমস্যার কার্যকর সমাধান সম্ভব নয়।
পরবর্তী সময়ে, রাজনৈতিক পট পরিবর্তনে সাক্ষরতার হার অনেকটা স্থবির হলেও, ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর থেকে দেশকে নিরক্ষরতামুক্ত করতে ব্যাপক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে আসছে। বাংলাদেশে সাক্ষরতার হারের ওপর ইউনেস্কো ইনস্টিটিউট ফর স্ট্যাটিসটিক্স- ইউআইএস-এর ২০১৬ সালের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী এক দশকে দেশে প্রাপ্ত বয়স্ক পুরুষ ও নারীর মধ্যে সাক্ষরতার হার বৃদ্ধি যথাক্রমে ৭৫.৬২ এবং ৬৯.৯০ শতাংশ। ২০১৬ সালে ১৫ থেকে ২৪ বছর বয়সী পুরুষ ও নারীর মধ্যে সাক্ষরতার হার বেড়েছে ৯২.২৪ শতাংশ, যা ২০০৭ সালে ছিল ৬১.৮৭ শতাংশ।
ইউআইএস এর এই তথ্য অনুযায়ী সাক্ষরতার হারে পার্শ্ববর্তী অনেক দেশের তুলনায় এগিয়েই রয়েছে বাংলাদেশ। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেনের বলেন, বাংলাদেশকে একটি ডিজিটাল প্রযুক্তিনির্ভর জাতি হিসেবে গড়ে তুলতে এবং নিরক্ষরতামুক্ত বাংলাদেশ বিনির্মাণে, নিরক্ষরতা দূরীকরণ কর্মসূচিকে একটি সামাজিক আন্দোলন হিসেবে গ্রহণ করেছে বর্তমান সরকার। সরকারের উপনুষ্ঠানিক শিক্ষা কার্যক্রমকে আরো জোরালো করতে কাজ চলছে।
তবে, বয়স্ক সাক্ষরতার ক্ষেত্রে সাধারণভাবে বাংলাদেশের অগ্রগতি হলেও, পুরুষের চেয়ে নারীরা এখনো পিছিয়ে রয়েছে বলে জাতিসংঘের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। ২০৩০ সালের মধ্যে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জন করতে হলে, বয়স্ক শিক্ষায় অংশগ্রহণ বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছে ইউনেস্কো।
আসাদ রিয়েল/বাংলা টিভি



