অন্যান্যবাংলাদেশ

১০ বছরে শিক্ষাখাতে যুগান্তকারী পরিবর্তন

আলোকিত জনগোষ্ঠী গড়তে বাংলাদেশে শিক্ষার গুণগত মান উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে। গত এক দশকে শিক্ষার সর্বস্তরেই চোখে পড়ার মতো অগ্রগতি সাধিত হয়েছে। শিক্ষার এই ব্যাপক অগ্রগতি ও সক্ষমতা অর্জন অর্থনীতিকে করেছে মজবুত ও টেকসই, দেশকে বিশ্বের বুকে দিয়েছে আলাদা পরিচিতি। শিক্ষার হার বৃদ্ধিতে বাংলাদেশের অগ্রগতির প্রশংসা করছে বিশ্বব্যাংকসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা।

বাংলাদেশে গণমুখী শিক্ষা ব্যবস্থা প্রবর্তনের জন্য দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ ছিলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তাই স্বাধীনতার পর বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ড. কুদরত-ই-খুদাকে প্রধান করে একশ’ সদস্যের একটি শিক্ষা কমিশন করেছিলেন তিনি। ওই কমিশনের প্রতিবেদনই প্রতিফলিত হয় বঙ্গবন্ধুর শিক্ষা ভাবনা।

তার আলোকেই শিক্ষা খাতে যুগান্তকারী পরিবর্তন হয়েছে গত ১০ বছরে। নারী শিক্ষা বিস্তার ও নারী উদ্যোক্তা সৃষ্টিতে বাংলাদেশ বিশ্বের উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে একটি সম্মানজনক অবস্থানে পৌঁছেছে। ১৯৯০ সালে বাংলাদেশে নারী শিক্ষার হার বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে কম ছিল, সে সময় দেশের ৮০ শতাংশ নারীই ছিল শিক্ষা বঞ্চিত।

২০১১ সালে বাংলাদেশে নারী শিক্ষার হার ছিল ৪৬ দশমিক ৭ শতাংশ, যা ২০১৭ সালে ৭০ দশমিক ১ শতাংশে দাঁড়ায়। ১০ বছর আগেও কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষার্থীর হার ছিল ২ শতাংশের মতো, যা এখন ১৬ শতাংশে এসে দাড়িয়েছে। আর গত ১০ বছরে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়েছে ছয়গুণ।

এদিকে, শিক্ষা খাতের নানা উন্নয়নে নিবিড়ভাবে কাজ করছে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। জোরদার করা হয়েছে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম জানালেন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেন।

এছাড়াও, সরকারের পদক্ষেপের উচ্চশিক্ষায়ও বাংলাদেশে বিপুল সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বর্তমানে ৩৮ লাখের বেশি শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করছেন। তবে শুধু উচ্চশিক্ষার প্রসারই নয়, এর মানোন্নয়নেও সরকার বদ্ধপরিকর বলে জানালেন, শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপুমনি।

শিক্ষার চাহিদা তৈরির ক্ষেত্রে অসাধারণ ভূমিকা রেখেছেন এ দেশের অগণিত মানুষ। ফলে শিক্ষা ক্ষেত্রে একপ্রকার বিপ্লব ঘটে গেছে। যা ভূমিকা রাখছে বিভিন্ন সূচকে অগ্রগতির পাশাপাশি দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে।

আসাদ রিয়েল, বাংলা টিভি, ঢাকা

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button