অন্যান্যবাংলাদেশ

বিশ্ববাজারে চাহিদা বাড়লেও বাংলাদেশে চিংড়িখাতে রপ্তানি আয় কমছে

বিশ্ব বাজারে চিংড়ির চাহিদা বাড়লেও এ খাতে বাংলাদেশের রপ্তানি আয় কমে যাচ্ছে। বাংলাদেশে উৎপাদিত বাগদা ও গলদা চিড়িংর তুলনায় ভেন্নামী শ্রিম্প বা প্রশান্ত মহাসাগরীয় সাদা চিংড়ির চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় ২০১৩-১৮ থেকে ২০১৮-১৯ অর্থবছর পর্যন্ত পাঁচ বছরে চিংড়ির বিশ্ব বাজারে বাংলাদেশের দখল ৪ শতাংশ কমে ২ শতাংশে নেমেছে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ‘হিমায়িত চিংড়ি রপ্তানি’ সংকট থেকে উত্তরণ এবং রপ্তানি বাজার ধরে রাখতে অধিক উৎপাদনশীল ভেন্নামী চিংড়ি উৎপাদনের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

বিশ্ব বাজারে একসময় রাজত্ব করা বাগদা ও গলদা চিংড়ির বাজার দখল করে নিয়েছে ভেনামী শ্রিম্প বা প্রশান্ত মহাসাগরীয় সাদা চিংড়ি। উচ্চ ফলনশীল ও দাম কম হওয়ায় হাইব্রিড জাতের এ চিংড়ি চাষ করে ইতিমধ্যে চীন, ভারত, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া ও থাইল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশ ব্যাপক সাফল্য পেয়েছে।

বাংলাদেশ হিমায়িত খ্যাদ্য রপ্তানিকারক সমিতি (বিএফএফইএ) এর তথ্য অনুযায়ী, গত ২০১৮-১৯ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে হিমায়িত চিংড়ি রপ্তানি হয়েছে ৩৬১ মিলিয়ন ডলারের, যা ২০১৪ সালের  তুলনায় ২৮ শতাংশ কম।

রপ্তানিকারকরা জানান, গত ১০ বছরে বাগদা চিংড়ির আন্তর্জাতিক বাজার ছোট হয়ে এসেছে ভেন্নামী প্রজাতির চিংড়ির দাপটে।

বাংলাদেশের অন্যতম চিংড়ি রপ্তানিকারক ও বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ ব্যবসায়ী ইকবাল আহমেদ ওবিই জানান, নতুন প্রজন্মের এই ভেন্নামী চিংড়ি উৎপাদন না করতে পারলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশে এ খাত আরও হুমকির মুখে পড়বে।

শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের একোয়াকালচার বিভাগের চেয়ারম্যান ড. এ এম সাহাবউদ্দিন বলছেন, লবণাক্ত এবং স্বাদু উভয় পানিতে চাষের উপযোগী হওয়ায় বাংলাদেশে ভেন্নামী প্রজাতির চিংড়ি উৎপাদনের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে।

বাংলাদেশ হিমায়িত খাদ্য রপ্তানিকারক সমিতির সভাপতি কাজী বেলায়েত হোসেন জানান, দেশীয় প্রজাতির চিংড়ি চাষের উৎপাদন খরচ বেশি হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য প্রতিযোগিতায় তারা টিকতে পারছেন না।

সরকারের অনুমোদন না পাওয়ায় বাংলাদেশের ‍চিংড়ি উৎপাদনকারীরা ভেন্নামী চিংড়ীর পোনা বা মা চিংড়ী আমদানী করতে পারছেন না। দীর্ঘদিন ধরেই ভেন্নামি উৎপাদনের বিষয়ে সরকারের কাছে দাবি জানিয়ে আসছে বাংলাদেশ হিমায়িত খাদ্য রপ্তানিকারক সমিতি।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম জানান, এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে সরকার।

খাত সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা ভেন্নামী চাষে সরকারের যথাযথ অনুমতি পেলে এর মাধ্যমে ঘুরে দাড়াবে দেশের চিংড়ি শিল্প।

আসাদ রিয়েল, বাংলা টিভি

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button