দেশবাংলা

চুরির অপবাদে হাত-পা বেঁধে দুই কিশোরকে নির্যাতন

চুরির অপবাদ দিয়ে হাত-পা বেঁধে মধ্যযুগীয় কায়দায় দুই কিশোরকে অমানবিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে ঠাকুরগাঁও এর স্থানীয় ইউপি সদস্য ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে।

গত ২২ মে ঠাকুরগাঁও জেলার পীরগঞ্জ উপজেলার সেনগাঁও ইউনিয়নের দেওধা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি প্রকাশ না করতে পরিবারটিকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। এরপর পীরগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করে নির্যাতনের শিকার সুমনের মা ও কামরুলের ফুপু সরিফা খাতুন।

পীরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা প্রদীপ কুমার রায় জানান,মামলায় সেনগাঁও ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য জহিরুল ইসলাম ও মোতালেব আলীসহ, আরও সাত জনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে মোতালেব আলী তার প্রতিবেশী গৃহবধূ সরিফা খাতুনকে কু-প্রস্তাব দিয়ে আসছিল। এতে সাড়া না দেওয়ায় চুরির অপবাদ দিয়ে গত ২২ মে স্থানীয় ইউপি সদস্য জহিরুল ইসলাম, মোতালেব আলীসহ আরও সাত জন মিলে সরিফা খাতুনের ছেলে সুমন ও তার ভাতিজা কামরুল ইসলামকে আটক করে।

এরপর তারা একটি শালিস বৈঠকের আয়োজন করে। শালিস বৈঠকে হাত-পা বেঁধে ওই দুই কিশোরকে ব্যাপক মারধর করে ইউপি সদস্যসহ তার সহযোগীরা। সেই ঘটনা মোবাইলেও ধারণ করে রাখে তারা। পরে ভিডিওটি গৃহবধূ সরিফা খাতুনকে দেখিয়ে ৫০ হাজার টাকা চাঁদাও দাবি করে।

চাঁদা না পেয়ে ইউপি সদস্য ও তার সহযোগীরা গৃহবধূকেও মারধর করে ও শ্লীলতাহানীর চেষ্টা চালায়। সে সময় তারা গৃহবধূর বাড়ি থেকে একটি গরু নিয়ে যায়। এরপর তারা ওই পরিবারটিকে অবরুদ্ধ করে রাখে।

এ বিষয়ে জানতে ইউপি সদস্য সদস্য জহিরুল ইসলামের মোবাইলে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button