
গুলশানের হলি আর্টিজানে নৃশংস জঙ্গি হামলার ৪ বছর আজ। দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে নৃশংস জঙ্গি হামলায় ইতালির ৯ জন, জাপানের ৭, ভারতীয় একজন ও বাংলাদেশি তিন নাগরিকসহ ২২ জনকে হত্যা করে জঙ্গিরা। নিম্ন আদালতে মামলায় আসামীদের মৃত্যুদণ্ড হলেও, এখনো শুরু হয়নি উচ্চ আদালতের বিচার প্রক্রিয়া। করোনার কারণে হাইকোর্টে নির্ধারিত সময়ে পেপারবুক তৈরির কাজ শেষ হয়নি।
গুলশানের হলি আর্টিজানে নৃশংস জঙ্গি হামলার ৪ বছর পেরিয়ে গেলেও বর্বর সেই হত্যাকাণ্ড এখনো দাগ কাটে মনে। দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে রোমহর্ষক হামলা চালানো জঙ্গিরা এখন নেতৃত্বহীন ও ছত্রভঙ্গ।
২০১৬ সালের ১ জুলাই গুলশানের ৭৯ নম্বর সড়কে, হলি আর্টিসান রেস্তোরাঁয় ঢুকেই জঙ্গিরা জিম্মি করে ফেলে অবস্থানরত সবাইকে। জিম্মির করার খবর মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে চারদিকে। ঘটনার ভয়াবহতা তখনো আঁচ করতে পারেনি কেউ। প্রায় ১২ ঘণ্টার রুদ্ধশ্বাস জিম্মি সংকটে চালানো হয় নৃশংস হত্যাযজ্ঞ। এ ঘটনা স্তম্ভিত করেছিল জাতি ও পুরো বিশ্বকে।
সে দিনের জঙ্গি হামলায় দুই পুলিশ কর্মকর্তা ও ১৭ বিদেশি নাগরিকসহ ২২ জন নিহত হন। কয়েকবার প্রস্তুতি নিয়েও রাতে অভিযান চালায়নি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পরদিন সকালে সেনাবাহিনীর প্যারা কমান্ডো সদস্যদের পরিচালিত ‘অপারেশন থান্ডারবোল্টে অবসান হয় জিম্মিদশার। পুলিশের অভিযানে মৃত্যু হয় হামলাকারী পাঁচ জঙ্গির।
ওই ঘটনায় দায়ের করা মামলায় দীর্ঘ দুই বছরের তদন্তে ২১ জনের সংশ্লিষ্টতা পায় কাউন্টার টেররিজম ইউনিট। এরমধ্যে ১৩ জন বিভিন্ন অভিযানে নিহত হলে, বাকি আটজনকে আসামি করে অভিযোগপত্র দেয় তদন্ত সংস্থা।
ঘটনার প্রায় সাড়ে তিন বছর ২০১৯ সালের ২৭ নভেম্বর ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী ট্রাইব্যুনালে হলি আর্টিজান মামলার রায় হয়। রায়ে সাত আসামিকে মৃত্যুদণ্ড এবং একজনকে বেকসুর খালাস দেয়া হয়।
রায়ের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, দেশের অসাম্প্রদায়িক চেতনা ক্ষুন্ন করা, বন্ধু রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক বিনষ্ট করা ও বাংলাদেশে আইএস’র অস্তিত্ব জানান দিতেই এই হামলা চালানো হয়েছিলো। সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের সবারই একই অপরাধপ্রবনতা ছিলো; তাই অনুকম্পা পাওয়ার কোন সুযোগ নেই।
এদিকে, হলি আর্টিজান হামলার পর, এ পর্যন্ত এক হাজারেরও বেশি জঙ্গী আইনের আওতায় এসেছে বলে জানান র্যাব মহাপরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন। এখন জঙ্গিদের বড় নাশকতার সক্ষমতা নেই বলে দাবি করেন ডিএমপি কমিশনার শফিকুল ইসলাম।
বুধবার হলি আর্টিজান হামলার চার বছর পূর্তিতে গুলশানে ঘটনাস্থলে ফুল দিয়ে নিহতদের শ্রদ্ধা জানানো শেষে এসব কথা বলেন র্যাব প্রধান ও ডিএমপি কমিশনার।জঙ্গি দমনের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন, নিহতদের শ্রদ্ধা জানাতে আসা বিশিষ্টজনেরা।
অন্যদিকে, হলি আর্টিসান মামলাটি বর্তমানে উচ্চ আদালতে ডেথ রেফারেন্সের উপর শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে। জঙ্গি হামলার ঘটনায় করা মামলায় বিচারিক আদালতের দেয়া দণ্ডের আসামিদের ডেথ রেফারেন্স ও আপিল শুনানির জন্য পেপারবুক তৈরির কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে।
কিছুদিনের মধ্যে এই পেপারবুক বিজি প্রেস থেকে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় পৌঁছাবে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে, অগ্রাধিকার ভিত্তিতে হাইকোর্টের নিয়মিত আদালতে আপিল শুনানির পদক্ষেপ নেবে রাষ্ট্রপক্ষ।
হাকিম মোড়ল, বাংলাটিভি



