
মার্চের ৮ তারিখে প্রথম শনাক্তের পর দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ২ লাখ ছাড়িয়েছে, মৃত্যু আড়াই হাজারের বেশি। তবে আক্রান্ত বিবেচনায় বাংলাদেশে মৃত্যুহার, অতিসংক্রমিত দেশগুলোর চেয়ে কম। যদিও মৃত্যুর হার নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মতপার্থক্য রয়েছে।
অনেকে বলছেন, অন্যতম কারণ হতে পারে দেশে বয়স্ক মানুষের সংখ্যা কম। আবার উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া ব্যক্তিরা, করোনায় মৃত্যুর তালিকায় অন্তর্ভূক্ত না থাকাকেও উল্লেখ করছেন বিশেষজ্ঞরা।
চীনের উহানে শুরু হয়ে, করোনা ভাইরাসে এখন পর্যন্ত সারা বিশ্বে আক্রান্তের সংখ্যা ১ কোটি ৪২ লাখের মতো, প্রাণ হারিয়েছে এপর্যন্ত অন্তত ৬ লাখ মানুষ। এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে সুস্থতার সংখ্যা ৮৫ লাখ। তবে আশার কথা হল, বর্তমানে প্রতিদিনকার হিসেবে যতো সংখ্যক মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে, সুস্থ হয়ে উঠছে তার চেয়ে বেশি পরিমাণে।
ওয়াল্ড মিটারের তথ্য অনুসারে করোনায় এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি মৃত্যু দেখেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। দেশটিতে করোনা শনাক্তের সংখ্যা ৩৭,৭০,০১২ জন। আর মৃতের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ১ লাখ ৪২ হাজার। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে পৃথিবীর ফুসফুস খ্যাত ব্রাজিল, সেখানে শনাক্ত হয়েছে ২০,৪৮,৬৯৭ জন। মারা গেছে ৭৭ হাজারের বেশি মানুষ।
তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত। এখন পর্যন্ত সেখানে আক্রান্তের সংখ্যা ১০,৪০,৪৫৭ জন। মৃত্যু ২৬ হাজার ছাড়িয়েছে। পাশাপাশি উন্নত বিশ্বের দেশ ইতালিতে বর্তমানে করোনা আক্রান্ত এবং মৃত্যুর কমলেও, দেশটিতে সবমিলিয়ে মারা গেছে ৩৫ হাজার ২৮ জন।
এদিকে, আইইডিসিআরের তথ্য অনুসারে, বাংলাদেশে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ২ লাখ এবং শনাক্ত বিবেচনায় মৃত্যুর হার ১.২৭ শতাংশ। অন্যদিকে অধিকসংক্রমিত দেশ আমেরিয়ায় মৃত্যুহার ৫.২১ শতাংশ, ব্রাজিলে ৪.০৪ শতাংশ এবং ভারতেও ২.৫৫ শতাংশ আক্রান্ত মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। সে বিবেচনায় গত চারমাসের হিসেবে বাংলাদেশে মৃত্যুর হার অনেকটাই কম, বলছেন বিশেষজ্ঞরা।
তবে দেশে মৃত্যুর হার নিয়ে মতভেদও রয়েছে বিশেষজ্ঞদের মাঝে। তারা বলছেন, মৃত্যুহার কমার জন্য বয়সের তারতম্য এবং উপসর্গ নিয়ে মৃতদের তুলনামূলক কম নমুনা পরীক্ষার কথা। এছাড়া সবাই আরো সতর্কতা মেনে চললে, দ্রুত সময়ের মধ্যে মহামারি করোনাভাইরাস থেকে মুক্তির আশা বিশেষজ্ঞদের।
বুলবুল আহমেদ, বাংলা টিভি



