দেশবাংলা

অপ্রতুল ত্রাণ, মানবেতর জীবনযাপন পানিবন্দিদের

উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢল আর টানা ভারী বর্ষণে বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। এতে পানিবন্দি মানুষ চরম মানবেতর জীবনযাপন করছে। আশ্রয় নিয়েছে নৌ টার্মিনালসহ উঁচু বাধের উপর। ভাঙ্গনের হুমকিতে রয়েছে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। তবে যা সাহায্য মিলছে তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল।

জামালপুরে সকালে বাহাদুরাবাদ ঘাট পয়েন্টে বিপদসীমার ৭৯ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। যমুনা নদীর পানি কিছুটা কমলেও বাড়ছে ব্রক্ষ্মপূত্র, ঝিনাই নদীর পানি। এতে জেলার প্রায় ১০ লাখ মানুষ পানি বন্দি হয়ে পড়েছে।

এদিকে দেওয়ানগঞ্জের বাহাদুরাবাদ ঘাটে নির্মানধীন বিআইডব্লিউটিএ ও বিআইডব্লিউটিসির প্রকল্পের কাজ বন্ধ রেখে প্রায় ৪ হাজার বানভাসী গবাদি পশু নিয়ে আশ্রয় নিয়েছে। তবে তাদের অভিযোগ প্রয়োজনের তুলনায় ত্রাণ অপ্রতুল।

এদিকে, গাইবান্ধায় বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। বাড়িঘরে এখনও কোমর পানি থাকায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন চরাঞ্চলের দেড়লাখ মানুষ। দ্বিতীয় দফার বন্যায় নদী ভাঙনে ফুলছড়ি উপজেলার ৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয় নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। এছাড়া হুমকির মুখে পড়েছে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধসহ বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা।

মানিকগঞ্জে অভ্যন্তরীন নদীগুলোর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় হরিরামপুর, দৌলতপুর, শিবালয় ও ঘিওর উপজেলার বিভিন্ন এলাকা নতুন করে প্লাবিত হচ্ছে। তলিয়ে গেছে রাস্তাঘাট, ফসলি জমি। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বন্যা কবলিতদের জন্য ১০৪ টি আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে।

অন্যদিকে, মুন্সীগঞ্জের বন্যা পরিস্থিতির নাজুক অবস্থা। সকালে ভাগ্যকূল পয়েন্টে পদ্মা নদীর পানি বিপদসীমার ৭২ এবং মাওয়া পয়েন্টে ৬৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। যা বিগত কয়েকদিনের মধ্যে সর্বোচ্চ। পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় টঙ্গীবাড়ী, লৌহজং ও শ্রীনগর উপজেলার অধিকাংশ এলাকার ২০ হাজারের অধিক মানুষ পানিবন্দি রয়েছে।বেশকিছু এলাকায় দেখা দিয়েছে ভাঙন। বিশুদ্ধ পানির সংকটে বন্যা কবলিতরা।

গত ২৪ ঘন্টায় রাজধানীর পার্শ্ববর্তী উপজেলার বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। পদ্মা ও ইছামতির পানি বাড়তে থাকায় ঢাকা জেলার দোহার ও নবাবগঞ্জ উপজেলার বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে।

দ্বিতীয় দফায় ফরিদপুরে গত ২৪ ঘন্টায় পদ্মার পানি বিপদসীমার ১০৪ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে চরভদ্রাসন উপজেলার ৪টি ইউনিয়নের প্রায় ৬ হাজার পরিবার পানি বন্দি হয়ে পড়েছে। উপজেলার সাথে বিছিন্ন হয়ে পড়েছে ইউনিয়নগুলোর যোগাযোগ ব্যবস্থা। বন্যা পরিস্থিতিতিতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ত্রান কার্যক্রমসহ বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা জানান, উপজেলা সহকারি ভূমি কমিশনার।

সবমিলিয়ে আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে সহযোগীতার পাশাপাশি বানভাসীদের পাশে সমাজের বিত্তবানরা এগিয়ে আসবে এমন প্রত্যাশা সকলের।

ডেস্ক রিপোর্ট, বাংলা টিভি

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button