
বর্ষা মৌসুমে রাজধানীর অধিকাংশ স্থানে জলাবদ্ধতার জন্য ওয়াসার গাফিলতিকে দুষছেন ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের মেয়র। তাদের অভিযোগ, ওয়াসার অধীনে থাকা রাজধানীর খালগুলো নিয়মিত সংস্কার না করাই মূল কারণ। তবে অভিযোগ মানতে নারাজ ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক। উল্টো জলজট নিরসনে সিটি কর্পোরেশনের ব্যর্থতাকেই দুষলেন তিনি।
এভাবে, প্রতি বছর এ দুটি প্রতিষ্ঠানের টানাপোড়েনে ঢাকাবাসীকে পোহাতে হচ্ছে সীমাহীন দুর্ভোগ। রাজধানীর জলাবদ্ধতা নিরসন ও সুষ্ঠু নগরায়নে পরিকল্পনা হয়, পাস হয় শতকোটি টাকার বাজেট। কিন্তু ফলাফল শুন্য। বর্ষা এলেই ঢাকায় দেখা দেয় তীব্র জলজট। প্রধান প্রধান সড়ক থেকে অলিগলি-পানিতে তলিয়ে যায় রাজধানীর অধিকাংশ এলাকা। চরম দূর্ভোগে পড়তে হয় নগরসীকে।
কয়েক দিনের বৃষ্টিতে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানের জলাবদ্ধতায় যখন অতিষ্ঠ নগরবাসী, ঠিক তখনও যেন ওয়াসার ঘুম ভাঙেনি। তবে, কুম্ভকর্ণের এই ঘুম ভাঙিয়ে দিলেন ঢাকা দক্ষিণ সিটির মেয়র। এই প্রথম ওয়াসার এমডিকে চ্যালেঞ্জ করে মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস স্থানীয় সরকার মন্ত্রী তাজুল ইসলামকে সঙ্গে নিয়ে সরেজমিন পরিদর্শনের মাধ্যমে জলাবদ্ধতা নিরসনে খাল সংস্কার না করাসহ ওয়াসার দায়িত্বহীনতার বিষয়টি নজরে আনেন।
আর ঢাকা উত্তরের মেয়র আতিকুল ইসলাম জানান কোন খামখেয়ালি নয়, জলাবদ্ধতা নিরসনে পুরোপুরি ব্যর্থ ঢাকা ওয়াসার। তার অভিযোগ বর্ষার আগেই খাল পুনরুদ্ধারসহ অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে ওয়াসার দায়িত্বশীল হওয়ার প্রয়োজন ছিলো।
তবে ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী তাকসিম এ খান, মেয়রের অভিযোগ ভিত্তিহীন উল্লেখ করে বলেন, প্রতি বছরই খালগুলো পরিষ্কার করার একটি প্রকল্প নেয়া হয় এবং তা সুষ্ঠুভাবেই সম্পন্ন করা হয়। উল্টো জলজট নিরসনে সিটি কর্পোরেশনের ব্যর্থতার দিকেই ইঙ্গিত ওয়াসা এমডির।
রাজধানীর জলজট নিরসনে ওয়াসা, ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন, রাজউক, পাউবোসহ কয়েকটি সংস্থার হাতে দায়িত্ব থাকায় প্রতি বছরই একে অপরের ওপর দায় চাপাচ্ছে। এতে করে কাজের কাজ আর কিছুই হচ্ছে না।
শাহরিয়ার রাজ, বাংলা টিভি



