পানি কিছুটা কমলেও দুর্ভোগ কমেনি বানভাসিদের

দেশের বিভিন্ন জেলায় বন্যার পানি কিছুটা কমলেও দুর্ভোগ কমেনি বানভাসিদের। দূর্গত এলাকায় দেখা দিয়েছে শুকনো খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকট। এছাড়া, বিভিন্ন এলাকায় অব্যাহত নদী ভাঙনে বিলীন হয়ে যাচ্ছে বাড়ি-ঘর। রাস্তাঘাট পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থা।
কুড়িগ্রামে ব্রহ্মপুত্র ও ধরলার পানি কমতে শুরু করলেও এখনো বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে জেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও দুর্ভোগ কমেনি বন্যা কবলিতদের। এখনও পানি না নামায় ঘরে ফিরতে পারেননি বাঁধ, পাকা সড়ক ও আশ্রয় কেন্দ্রে ঠাঁই নেয়া চরাঞ্চলের নীচু এলাকার মানুষ।
দীর্ঘস্থায়ী বন্যায় সিরাজগঞ্জের ৭ উপজেলার প্রায় ৫ লাখ মানুষ এখনো পানিবন্দী। খাদ্য, বিশুদ্ধ পানিসহ নানা সংকটে মানবেতর জীবন যাপন করছেন বন্যাকবলিতরা।
এদিকে, ফরিদপুরে গত ২৪ ঘন্টায় পদ্মার পানি কিছুটা স্থিতিশীল থাকলেও এখনও বিপদ সীমার ৮০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে চরম দূর্ভোগে রয়েছেন জেলার প্রায় ২লাখ পানিবন্দি মানুষ।
গোপালগঞ্জে প্রতিদিনই নতুন নতুন এলাকা বন্যায় তলিয়ে যাচ্ছে। আগে সদর, কাশিয়ানী ও মুকসুদপুর উপজেলার ১৫টি গ্রামের বাসিন্দারা পানিবন্দি ছিল। এর সাথে নতুন করে যোগ হয়েছে শিমুলবাড়ি, কাফুলাবাড়ি এবং রামনগর গ্রাম। এ নিয়ে জেলার ১৮টি গ্রামের কয়েক হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।
অন্যদিকে, গাজীপুরের তুরাগ, বংশী ও ঘাটাখালী নদ-নদীর পানি কমতে শুরু করলেও কালিয়াকৈর উপজেলার নিম্নাঞ্চলের ১৮২টি গ্রাম এখনো বন্যায় প্লাবিত রয়েছে। কালিয়াকৈর-ধামরাই, কালিয়াকৈর-ফুলবাড়িয়া ও সফিপুর-বড়ইবাড়ি সড়কে বিভিন্নস্থানে পানি ওঠায় সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে।
মানিকগঞ্জে তিন দফা বন্যায় ৩১৬ বর্গ কিলোমিটার এলাকা প্লাবিত হয়েছে। বেশীরভাগ উপজেলার রাস্তাঘাট এখনো পানিতে তলিয়ে আছে। জেলাপ্রশাসনের পক্ষ থেকে বানভাসিদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ অব্যাহত রয়েছে।
এছাড়া, গত দুই দিনে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার কেয়াইন ইউনিয়নের ইসলামপুর গ্রামের প্রায় ২০ টি বাড়ী। হুমকির মুখে পড়েছে শতাধিক বাড়ী এবং ইসলামপুর কামিল মাদ্রাসা। প্রশাসনের পক্ষ থেকে এসব এলাকায় কোন ধরণের ত্রাণ সহায়তা দেয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন বানভাসীরা।
ডেস্ক রিপোর্ট, বাংলা টিভি



