দেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স

বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি মনে করা হয়, বিভিন্ন দেশে কর্মরত প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ বা রেমিট্যান্সকে। প্রবাসীরা তাদের উপার্জিত টাকা পাঠিয়ে দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে বড় ভূমিকা পালন করছেন। বর্তমান সরকারের ঐকান্তিক ও সফল শ্রম কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় বিগত ১০ বছরে বাংলাদেশ থেকে ৬৬ লাখ ৩৩ হাজার ২৫৪ জন কর্মী প্রশিক্ষণ নিয়ে বিদেশে কাজ করছেন।
গেলো বছর থেকে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্সে ২ শতাংশ হারে প্রণোদনা দিচ্ছে সরকার। আর সেটি, রেমিটেন্স প্রবাহ বাড়াতে সহায়ক হচ্ছে বলেও মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
অজস্র ত্যাগ-সংগ্রামে স্বাধীনতা অর্জনের পর, যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশের অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে কূটনৈতিক তৎপরতায় জোর দেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। যার ফলশ্রুতিতে, বৈদেশিক রাষ্ট্রে কর্মসংস্থান এবং কর্মী পাঠানোর বিষয়ে মধ্যপ্রাচ্যের দেশসমূহের সাথে সমঝোতা সৃষ্টি হয়। তারই ধারাবাহিকতায়, এসব দেশসমূহে বাংলাদেশি কর্মী নেয়া শুরু হয়।
মাঝে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনে মানবসম্পদ রপ্তানীতে ভাটা পড়লেও আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর যুগোপযোগী পদক্ষেপে ঘুরে দাড়ায় বৈদেশিক শ্রমবাজারে দেশীয় জলবলের চাহিদা। সে অনুযায়ী দক্ষ জনশক্তি সৃষ্টিতে, নানামুখী প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্ব দেয় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়।
বর্তমানে জনশক্তি রপ্তানিতে এশিয়ার মধ্যে দ্বিতীয় অবস্থানে বাংলাদেশ। মন্ত্রণালয় বলছে, দশ বছরে ৬৬ লাখেরও বেশি কর্মীর বিদেশে কর্মসংস্থান হয়েছে। গত দুই বছরে, উল্লেখযোগ্যে হারে বেড়েছে প্রবাসী আয়।
এ প্রসঙ্গে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. আহমেদ মুনিরুছ সালেহীন জানান, প্রতিবছর শ্রমবাজারে যে পরিমাণ নতুন কর্মী যুক্ত হয়, তার এক চতুর্থাংশে বেশি যোগান দেয় বৈদেশিক কর্মসংস্থান।
তিনি আরো বলেন, প্রবাসীদের সামগ্রিক কল্যাণ ও সুযোগের সমতা নিশ্চিতকরণ, নতুন নতুন শ্রমবাজার সৃষ্টি এবং চাহিদা অনুযায়ী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে কাজ করছে সরকার।
এছাড়া সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশের জনশক্তিকে বিশেষায়িত শিক্ষায় আরও দক্ষ করে তুলতে পারলে, বিদেশে জনশক্তি রপ্তানি বাড়বে। আর এর মাধ্যমে আরও, সমৃদ্ধ হবে দেশের অর্থনীতি।
আসাদ রিয়েল, বাংলা টিভি, ঢাকা



