বন্যায় ক্ষতির মুখে কৃষক ও মৎস্যচাষীরা

একদিকে করোনার প্রাদূর্ভাব, অন্যদিকে বন্যায় ফসলের ক্ষেত তলিয়ে যাওয়ায় এবং মাছের ঘের ভেসে যাওয়ায় ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে কৃষক ও মৎস্য চাষীরা। আকস্মিক বন্যায় পাটের ব্যাপক ক্ষতি হওয়ায় আশানুরূপ ফলন পাচ্ছে না কৃষকরা। কোথাও আবার প্রবল বর্ষণে নতুন করে বন্যার আশংকায় রয়েছেন অনেকে।
গোপালগঞ্জের সদর উপজেলার রঘনাথপুর এলাকাটি পরিচিত সবজি গ্রাম নামে। সহস্রাধিক মাছের ঘেরও রয়েছে এখানে। কিন্তু বন্যার পানি জমে ক্ষেতের সবজি গাছ মরে যাচ্ছে। পানিতে ভেসে গেছে জেলার কয়েক হাজার ঘেরের মাছ। এতে করে চরম ক্ষতিতে পড়েছেন কৃষকরা। টিকে থাকতে সরকারী সহায়তার দাবি তাদের।
ক্ষতিগ্রস্থ কৃষক ও মৎসচাষীদের প্রনোদনা ও বীজ দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন, গোপালগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড.অরবিন্দ কুমার রায়।
এদিকে, আকস্মিক বন্যায় মাদারীপুরে পাটের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা থাকলেও আশানুরূপ ফলন পাচ্ছে না কৃষকরা। বন্যায় পাটক্ষেত তলিয়ে যাওয়ায় এবং শ্রমিক সংকটে পাট কাটতে না পারায় ক্ষেতেই দাড়িয়ে আছে মরা পাট। আবার কিছু পাট ক্ষেতে হাটু পরিমান পলি জমে থাকায় পাট কাটতে ভোগান্তিতে পড়েছেন কৃষকরা। যে কারণে বাজারে পাটের ভালো দাম থাকলেও হাসি নেই কৃষকের মুখে।
বন্যায় পাটখাতে প্রায় ২৪ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে জানিয়ে ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের তালিকা করে বীজ এবং সার দেয়ার প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে বলে জানান, মাদারীপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোঃ মোয়াজ্জেম হোসেন।
অন্যদিকে, চাঁদপুর সদর উপজেলার ১৩ নম্বর হানারচর ইউনিয়নের হানারচর গ্রাম, সাদুল্লাপুর, গোবিন্দ গ্রামে জোয়ারের পানি বেড়ে বন্যা দেখা দিয়েছে। এতে কয়েকশ কাঁচা ঘর বাড়ি ও প্রায় ১শ পুকুরের মাছ ভেসে যাওয়ায় হতাশায় চাষীরা।
বন্যা ও করোনার ক্ষতি কাটিয়ে ঘুরে দাড়াতে সরকার সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেবে এমন প্রত্যাশা কৃষক ও মৎস্যচাষীদের।
ডেস্ক রিপোর্ট, বাংলা টিভি



