অন্যান্যবাংলাদেশ

কৃষিজমির ভিন্ন ব্যবহার না থামলে ক্ষতির শঙ্কা

কল-কারখানা ও আবাস নির্মাণের ফলে দেশে প্রতিনিয়তই কমে আসছে ফসলি জমির পরিমাণ। বিশ্বব্যাংকের তথ্যমতে, গত পাঁচ দশকে এই কমতির হার বেড়ে গেছে কয়েকগুণ। কৃষিবিদরা বলছেন, যে হারে জনসংখ্যা বাড়ছে তাতে অকৃষি খাতে কৃষি জমির ব্যবহার বন্ধ না করলে, আগামীতে এর চড়া মাসূল দিতে হবে।

সময়ের সাথে সাথে আধুনিকতার মোড়কে ঢেকে যাচ্ছে চারপাশ। জনসংখ্যা বাড়ার ফলে বাড়ছে আবাসন, কমছে ফসলি জমির পরিমাণ। বাড়িঘর, মিল-ফ্যাক্টরিসহ নানা ধরনের স্থাপনায় কমে আসছে উর্বর জমি।

বিশ্বব্যাংকের সবশেষ ২০০৩ সালের এক প্রতিবেদন অনুসারে, দেশে মোট আবাদযোগ্য জমির পরিমাণ ৮০ লাখ হেক্টর। মোট জনসংখ্যা আনুমানিক ১৮ কোটি হিসেবে, মাথাপিছু এর পরিমাণ দাঁড়ায় শূন্য দশমিক ৪৪ হেক্টরে। ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট নির্মাণসহ নানা কারণে প্রতিবছর দেশের প্রায় ৮০ হাজার হেক্টর জমি চলে যাচ্ছে অকৃষি খাতে।

অর্থাৎ প্রতিবছর দেশ থেকে ১ শতাংশ হারে কৃষিজমি হারিয়ে যাচ্ছে। যার পরিমাণ প্রায় ২১৯ হেক্টর জমি। এই ধারা অব্যাহত থাকলে ২০৩০ সাল নাগাদ দেশের মোট কৃষিজমি অস্বাভাবিক পরিমাণে নেমে যাবে।

ভূমি জরিপ বিভাগের তথ্যমতে, ১৯৭১ সালে আবাদি জমির পরিমাণ ছিল ২ কোটি ১৭ লাখ হেক্টর।  যা ১৯৮৬ সালে এসে দাঁড়ায় মাত্র ৮১ লাখ ৫৮ হাজার হেক্টরে এবং ২০০৩ সালে আরও কমে, ৭০ লাখ ৮৭ হাজার হেক্টরে দাঁড়ায়। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের জনসংখ্যা ছিল প্রায় ৮ কোটি; আর ২০২০ সালে তা দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৮ কোটিতে।

এদিকে, জনসংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই বাড়ছে তার অন্ন বস্ত্র ও বাসস্থানের চাহিদা। যার ফলশ্রুতিতে, বাড়ছে বাড়িঘর মিল-ফ্যাক্টরি, আর কমছে কৃষিজমি।

কৃষিজমিতে আবাস ও স্থাপনা নির্মাণ গ্রহণযোগ্য নয় বলে মনে করেন, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মোঃ সেকেন্দার আলী। আর এ থেকে বের হতে সরকারকেই দায়িত্ব নিতে হবে বলেও মনে করেন তিনি। একই সঙ্গে, জনসচেতনতাও এ ক্ষেত্রে জরুরি বলেও মত দেন এই কৃষিবিদ।

বুলবুল আহমেদ, বাংলা টিভি

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button